স্কুল ক্রিকেটে ৩৩০ বলে ৮৫ চার ও ৫ ছক্কায় ৫৪৬ রানের ইনিংস খেলে প্রথম আলোচনায় এসেছিলেন পৃথ্বী শ। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে তার নেতৃত্বে এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপ জেতে ভারত। ২০১৮ সালে আইপিএলে এক কোটি ২০ লাখ রুপিতে দিল্লি ক্যাপিটালসে যোগ দেন। পরে পারফরম্যান্সে উজ্জ্বলতা হারানোয় এখন ক্রিকেটীয় কারণে অনেকটাই আলোচনার বাইরে। আলোচনায় যখন এলেন, দেখা যাচ্ছে তার বিরুদ্ধে উঠেছে শ্লীলতাহানির অভিযোগ।
ভারতের হয়ে সব ফরম্যাট মিলিয়ে ১২ ম্যাচ খেলা ডানহাতি ওপেনিং ব্যাটারের নামে শ্লীলতাহানি ও শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ এনেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সার স্বপ্না গিল। পুলিশ যেন অভিযোগ আমলে নেয়, সেই দাবিতে গিল আদালতে মামলা দায়ের করেন। যার প্রেক্ষিতে আদালত ২৪ বর্ষী পৃথ্বীর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মুম্বাইয়ের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস সি তাইদে পুলিশকে আগামী ১৯ জুনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পৃথ্বী শ এবং অন্যদের বিরুদ্ধে গিলের অভিযোগ পুলিশ নিতে চায়নি, এই দাবিতে পুলিশের বিরুদ্ধেও স্বপ্নার ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন ছিল, যা খারিজ করেছেন আদালত। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে সফল পৃথ্বী অবশ্য সব অভিযোগ আগেই অস্বীকার করেছেন।
২০২৩ সালে আন্ধেরির একটি ক্লাবে পৃথ্বী শ ও তার বন্ধুর উপর আক্রমণের অভিযোগ ওঠে স্বপ্না গিলের বিরুদ্ধে। লাঠি নিয়ে পৃথ্বীর গাড়ির কাচ ভেঙে দেন স্বপ্না, এমন ভিডিও সেসময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। তারপর পৃথ্বী ও তার বন্ধুর অভিযোগে স্বপ্নাসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জামিনে ছাড়া পান স্বপ্না।
এরপরই পৃথ্বী শ’র বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তোলেন স্বপ্না। জামিন পাওয়ার পর আরও একাধিক অভিযোগ এনেছেন। পুলিশের বিরুদ্ধে এফআইআর না নেয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তারপর আদালতে যান তিনি। অবশ্য পুলিশ আগেই আদালতকে বলেছে, পৃথ্বী শ’র বিরুদ্ধে গিলের শ্লীলতাহানির অভিযোগ সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন’।
পুলিশের ভাষ্য, ক্লাবের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে গিল এবং তার বন্ধু শোভিত ঠাকুর মাতাল ছিলেন এবং নাচছিলেন। সেখানে ছিলেন পৃথ্বী বন্ধু আশিষ যাদবের সাথে ছিলেন। স্বপ্না ও তার বন্ধু শোভিত পৃথ্বীদের কাছে সেলফি তোলার আবেদন করলে সেটি নাকচ করে দেন ভারতের তরুণ তারকা। এতে চটে গিয়ে পৃথ্বীর ও তার বন্ধুর উপর চড়াও হন স্বপ্না। পুলিশের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে পৃথ্বী শ এবং তার সাথে থাকা অন্যরা কোনভাবেই স্বপ্নাকে শ্লীলতাহানি করেননি।








