সামনের দিনের উন্নয়ন অপরিহার্যতা বিবেচনায় বিশ্বব্যাংককে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাঁচটি সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিয়েছেন।
ভয়েস অব আমেরিকা জানায়, স্থানীয় সময় সোমবার ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের সদরদপ্তরে ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের সম্পর্কের ৫০ বছর’ উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এই পরামর্শ দেন।
প্রথম: চলমান বিশ্বব্যাপী একাধিক সংকট যেমন মহামারী, সশস্ত্র সংঘাত এবং জলবায়ুর জরুরি অবস্থা বেশিরভাগ উন্নয়নশীল অর্থনীতিকে মারাত্মক চাপের মধ্যে ফেলেছে। তারপরও কিছু উন্নয়ন অংশীদার তাদের মূল যায়গা থেকে সরে এসে ঋণের খরচ এবং সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে । আমি বিশ্বব্যাংক এবং অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে কার্যকর বিকল্প খুঁজে বের করার আহ্বান জানাচ্ছি যাতে আমাদের মত অর্থনীতি উদীয়মান চ্যালেঞ্জগুলো আরও ভালভাবে মোকাবিলা করতে পারে।
দ্বিতীয়: বাংলাদেশ ২০২৬ সালে জাতিসংঘের এলডিসি মর্যাদা থেকে টেকসই উত্তরণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি বিশ্বব্যাংককে আমাদের মানবসম্পদ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচিগুলোকে একটি মসৃণ উত্তরণের জন্য সহায়তা করার জন্য অনুরোধ করছি। গুরুত্বপূর্ণ ‘আইডিএ’ উইন্ডোটি চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও এসময় তুলে ধরেন তিনি।
তৃতীয়: বাংলাদেশ ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার জাতীয় আকাঙ্খার সাথে জাতিসংঘের এসডিজিগুলোকে সমন্বয় করেছে। বিশ্বব্যাংক এবং অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদাররা এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য সহজে উদ্ভাবনী অর্থায়ন সরবরাহ করবে বলে প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রী।
চতুর্থ: বাংলাদেশ আশা করে যে জলবায়ু সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে বিশ্বব্যাংকের সম্পৃক্ততা প্যারিস চুক্তির অধীনে অর্থায়নের যে ঘাটতি তা পূরণে সাহায্য করবে। জলবায়ু প্রশমন এবং অভিযোজনের মধ্যে অর্থায়নের সমান বণ্টনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন তিনি।
পঞ্চম: ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ অবকাঠামো ও লজিস্টিকসে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে। আমি আশা করব বিশ্বব্যাংক আগামী বছরগুলোতে আমাদের ভৌত ও সামাজিক উভয় মেগা-প্রকল্পে নিয়োজিত থাকবে।
এর আগে বিশ্বব্যাংকে পৌঁছে একটি ছবি প্রদর্শনীও উদ্বোধন করেন তিনি, যেখানে বাংলাদেশের গত ৫০ বছরের অগ্রযাত্রা তুলে ধরা হয়।
এদিকে বাংলাদেশকে ২২৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে বিশ্বব্যাংক। আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার পাঁচটি উন্নয়ন প্রকল্পে এ ঋণ দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাসের উপস্থিতিতে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক ঋণদাতা সংস্থার মধ্যে এ ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
প্রথম প্রকল্প হলো, রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিল্ডিং প্রজেক্ট (আরআইভিইআর), বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্ট সাসটেইনেবলিটি এন্ড ট্রান্সফরমেশান (বিইএসটি), অ্যাকসেলারেটিং ট্রান্সপোর্ট এন্ড ট্রেড কানেক্টিভিটি ইন ইস্টার্ন সাউথ এশিয়া (এসিসিইএসএস) বাংলাদেশ ফেজ-১, ফার্স্ট বাংলাদেশ গ্রিন এন্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট (জিসিআরডি) এবং সাসটেইনেবল মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ এন্ড রেজিলিয়েন্ট ট্রান্সফরমেশনান (এসএমএআরটি)।
এসব প্রকল্পের মধ্যে অভিযোজন ও ঝুঁকি হ্রাসের জন্যে পাঁচশ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিল্ডিং প্রজেক্ট রয়েছে যা ‘ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’ বাস্তবায়নে প্রথম বড় বিনিয়োগ প্রকল্প। এটি অভ্যন্তরীণ বন্যার বিরুদ্ধে দুর্যোগ প্রস্তুতির উন্নয়নে সহায়তা করবে।
২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হবে বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবল এন্ড ট্রান্সফরমেশানে (বিইএসটি)। এটি বাংলাদেশে পরিবেশ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে এবং সবুজ বিনিয়োগে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে সহায়তা করবে।
৭৫৩ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হবে অ্যাকসেলারেটিং ট্রান্সপোর্ট এন্ড ট্রেড কানেক্টিভিটি ইন ইস্টার্ন সাউথ এশিয়া (এসিসিইএসএস) বাংলাদেশ ফেজ-১ এ যা ঢাকাকে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সংযোগ বাড়াতে সাহায্য করবে। ৫শ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ফার্স্ট বাংলাদেশ গ্রিন এন্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট (জিসিআরডি) যা দেশকে সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নে সহায়তা করবে। সর্বশেষ প্রকল্পে আছে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সাসটেইনেবল মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ এন্ড রেজিলিয়েন্ট ট্রান্সফরমেশনান (এসএমএআরটি)। এটি ক্ষুদ্র শিল্প খাতকে আরও গতিশীল, কম দূষণকারী, দক্ষ এবং জলবায়ু সহনশীল প্রবৃদ্ধির খাতে রূপান্তরে সহায়তা করবে।








