রাজধানীর বাজারগুলোতে আবারও সবজির দাম বেড়েছে। সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশির ভাগ সবজির কেজিপ্রতি দাম ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কিছু সবজির দাম তো আগের তুলনায় দ্বিগুণ। বিপরীতে পেঁয়াজ ও ডিমের দাম কমেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর টাউনহল, আগারগাঁও, রামপুরা ও তেজগাঁও কলোনি বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত মাসের ভারী বৃষ্টিতে উৎপাদন অঞ্চলে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ফলে বাজারে শীতকালীন সবজির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। আর পাইকারিতে দাম কমায় খুচরা বাজারে ডিমের দর কিছুটা কমেছে।
গত সপ্তাহে সরবরাহ বাড়ায় বেশ কিছু সবজির দাম ২০–৩০ টাকা কমেছিল। তবে বৃহস্পতিবার আবার বাড়তি উত্তাপ দেখা গেছে বাজারে। শিম, মুলা, ফুলকপি ও বাঁধাকপির দাম বাড়ায় অন্যান্য সবজির দামেও প্রভাব পড়েছে।
গত সপ্তাহে শিমের দাম ছিল ৫০–৬০ টাকা। আজ তা বেড়ে ১০০–১২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ছোট আকারের ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হয়েছে ৫০–৬০ টাকায়, যা গত সপ্তাহের তুলনায় অন্তত ১০ টাকা বেশি। মুলার কেজি ২০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৫০ টাকা।
বরবটি, উস্তা ও কাঁকরোল ৬০–৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০–৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ঢ্যাঁড়শ ও পটোলও ৪০–৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০–৭০ টাকায় উঠেছে। কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে সব থেকে বেশি। গত সপ্তাহের ৮০ টাকা কেজির কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৮০–২০০ টাকা কেজি দরে।
বাজারে নতুন আলু উঠেছে। তবে দাম বেশ চড়া, প্রতি কেজি ১৪০–১৫০ টাকা। পুরোনো আলু পাওয়া যাচ্ছে ২০–২৫ টাকায়।
কারওয়ান বাজারের সবজি ব্যবসায়ী কবির হোসেন বলেন, ‘গত মাসের বৃষ্টিতে অনেক জমিতে পানি দাঁড়ায়। এতে সবজির গাছ নষ্ট হয়েছে। উৎপাদন এলাকাতেই দাম বাড়ছে, তাই ঢাকায়ও বাড়তি দাম গুণতে হচ্ছে।’
সবজির বাজার চড়া হলেও ডিমের বাজার উল্টো চিত্র। ফার্মের প্রতি ডজন ডিম গত সপ্তাহে ১৩০ টাকা থাকলেও বৃহস্পতিবার বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকায়। মুরগির বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই, ব্রয়লার ১৬০–১৭০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৬০–২৯০ টাকা কেজি। গরুর মাংসের দামও ৭৫০–৭৮০ টাকার মধ্যেই রয়েছে।
পেঁয়াজের বাজারে আরও কিছুটা স্বস্তি এসেছে। দেশি পেঁয়াজের কেজি গত সপ্তাহের তুলনায় ৫ টাকা কমে ১০৫–১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বাজারে পাতাযুক্ত নতুন পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে ৭০–৮০ টাকায়।
আদা–রসুনের বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। দেশি রসুন ১০০–১৪০ টাকা এবং আমদানিকৃত রসুন ১৬০–২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদার দাম মানভেদে ১৫০–২০০ টাকা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ায় পেঁয়াজের বাজারে চাপ কমছে। না হলে দাম আরও বাড়তে পারত। চাল, ডাল, তেল ও চিনির বাজারও মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।









