পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞ তদন্তে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন রোববার (৩০ নভেম্বর) তাদের মেয়াদের শেষ দিনে সংবাদ সম্মেলন করবে।
শনিবার কমিশন প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান জানান, সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব এলাকার বিআরআইসিএম ভবনে তদন্ত অগ্রগতি সম্পর্কে তারা তথ্য তুলে ধরবেন।
সূত্র বলছে, সংবাদ সম্মেলনের আগেই কমিশন অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে পারে।
এদিকে আগামী সোমবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারবর্গ কমিশনের প্রতিবেদনের বিষয়ে নিজস্ব প্রতিক্রিয়া জানাতে রাওয়া ক্লাবের ঈগল হলে সংবাদ সম্মেলন করবে।
গত বছর ২৩ ডিসেম্বর বিডিআর সদর দপ্তরে ২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারির হত্যাযজ্ঞ তদন্তে সাত সদস্যের স্বাধীন জাতীয় কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক মহাপরিচালক এ এল এম ফজলুর রহমানকে প্রধান করে সামরিক বাহিনীর দুজন, দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, একজন সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তা ও পুলিশের একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে নিয়ে কমিশন গঠিত হয়। পরবর্তীতে এ কমিশনের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়; আজ তার শেষ দিন।
গত ২৫ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশন জানিয়েছিল, ওই হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং ঘটনা দীর্ঘমেয়াদি ষড়যন্ত্রের ফল বলে তাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। আলামত নষ্টের চেষ্টা ও তদন্ত ভিন্নদিকে নেওয়ার প্রমাণও উল্লেখ করেছিল কমিশন।
কমিশন গঠনের আগে গত ১৫ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, পিলখানা হত্যাযজ্ঞ নিয়ে দুটি মামলা আদালতে চলমান থাকায় নতুন কমিশন গঠন আদালতের আদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তদন্ত কমিশনের দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করে। পরে সরকার ১৭ ডিসেম্বর জানায়, পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা এবং সুধীসমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হবে। পরে সমালোচনার মুখে সরকার পুনরায় কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।
এ ছাড়া গত ১৯ ডিসেম্বর নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৫৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করে। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদসহ তৎকালীন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিম, শেখ তাপস, মির্জা আজম, জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।









