বৈশাখের খরতাপে কয়েকদিন ধরেই হাঁসফাঁস করছে মানুষ। তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। শুধু বাংলাদেশ নয়, পাশের দেশ ভারতেও চলছে এই অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ। প্রচণ্ড গরমে নাজেহাল পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা শহর। দক্ষিণবঙ্গজুড়ে তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। এই তীব্র গরমের মধ্যে সংবাদ পাঠ করার সময় জ্ঞান হারালেন কলকাতার টিভি সংবাদ পাঠিকা লোপামুদ্রা সিনহা।
রোববার (২১ এপ্রিল) ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯ এপ্রিল সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করে এই অসুস্থতার ঘটনা জানান তিনি।
অসুস্থতার বিষয়ে লোপামুদ্রা বলেন, তীব্র গরমে শরীরে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়ার কারণে তিনি অজ্ঞান হয়েছিলেন। এছাড়াও স্টুডিও’র কুলিং সিস্টেমে কিছু সমস্যা থাকায় ভিতরে প্রচণ্ড গরম অনুভব হয়েছিল।
লোপামুদ্রা জানান, সংবাদ পড়ার সময়ে বেশ কিছুক্ষণ ধরেই আমার শরীর খারাপ লাগছিল। মনে হচ্ছিল, একটু পানি খেলে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু সেইসময়ে কোনও বাইট না আসায় পানি খেতে পারিনি। শেষমেশ একটা বাইট আসলে আমি ফ্লোর ম্যানেজারকে ইশারা করে পানি চাই। পানিটা খাইও। তার পর আস্তে আস্তে চোখের সামনে টেলিপ্রম্পটারটা ঝাপসা হয়ে আসতে থাকে।
নিজের ২১ বছরের ক্যারিয়ারে এই প্রথম এমন ঘটনার সম্মুখীন হলেন লোপামুদ্রা। ওই সময় তার নিউজ প্রোডিউসার তৎক্ষণাৎ বুলেটিন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন। পেশাদার সংবাদ পাঠিকা হিসেবে সেই আফসোস লোপামুদ্রার রয়েছে। প্রকাশ্যে ক্ষমাও চেয়ে নেন অসুস্থ লোপামুদ্রা। তিনি বলেন, ‘আমার ভুল হয়েছিল, সঙ্গে পানি বা ওআরএস রাখা উচিত ছিল’।
এমনিতে দূরদর্শনের নিউজ ফ্লোর শীততাপ নিয়ন্ত্রিত হলেও ওইদিন সেটি কাজ করছিল না, জানান সঞ্চালিকা। ফলে ফ্লোর মারাত্মক গরম হয়ে পড়েছিল। তবে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ওআরএস, খাবার খাইয়ে হাসপাতালে নেয়া হয় লোপামুদ্রাকে। এই গরমে সবাইকে শরীরের যত্ন নিতে বলেন সঞ্চালিকা। পাশাপাশি চারিদিকে গাছ লাগানোরও বার্তা দেন তিনি।









