বাংলাদেশে পাঠানো অন্তঃসত্ত্বা সোনালিসহ ছয়জনকে চার সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফেরাতে নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট।
সোনালীর বাবা ও আরেকটি পরিবারের করা পৃথক রিটের রায়ে শুক্রবার একই নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বিবিসি বাংলার খবর অনুযায়ী ‘মাইলফলক’ এই রায়ের পর্যবেক্ষণে কলকাতা হাইকোর্ট বলেছেন, ৩০ দিনের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এদের পরিচয় যাচাই করে দিল্লিতে জানিয়েছিল। কিন্তু তার আগেই এদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অতি দ্রুততার সঙ্গে এদের প্রত্যর্পণ করতে গিয়ে দিল্লি পুলিশ বড় ভুল করেছে।
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, “১৯৯৮ সালের কোনও সময়ে বেআইনি ভাবে ভারতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে সোনালির আধার কার্ড এবং প্যান কার্ডে তার যে বয়স লেখা আছে তাতে তার বয়স ২৬ বছর, অর্থাৎ তার জন্ম হয়েছিল ২০০০ সালে। তাই সোনালি ১৯৯৮ সালে ভারতে এসে থাকতে পারেন না।”
এছাড়া কলকাতা হাইকোর্ট তাদের রায়ে উল্লেখ করেছে যে , বিদেশি আইন অনুযায়ী একজন সন্দেহভাজন বিদেশির ওপরেই তার নাগরিকত্বের প্রমাণ দাখিল করার দায়। তাই আইনের ধারা প্রশাসনকে এই ক্ষমতা দেয় নি, যে কাউকে বেছে নিয়ে তার বাড়ির দরজায় কড়া নেড়ে বলতে পারবে যে আপনি বিদেশি। প্রাথমিকভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে কিছু প্রমাণ বা তথ্য থাকতে হবে, যার ভিত্তিতে একজনকে সন্দেহ করা যেতে পারে যে তিনি বিদেশি, ভারতীয় নন।
দিল্লি পুলিশের অতি উৎসাহ, অতি দ্রুততার সঙ্গে সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া এবং সোনালি খাতুন সহ ছয়জন ভারতীয় নন বলে দুদিনের মধ্যে তাদের প্রত্যর্পণ করে দেওয়া ও থানায় চাপ দিয়ে জবানবন্দি আদায় করায় নেতিবাচক মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট।
এদিকে, গত কয়েক মাসে অনেক ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার প্রেক্ষাপটে সোনালি খাতুন সহ ছয়জনের মামলার এই রায়কে ‘মাইলফলক’ রায় বলে উল্লেখ করছে ভারতের মানবাধিকার সংগঠনগুলি।
সোনালি খাতুন নামের গর্ভবতী নারীসহ মোট ছয়জনকে দিল্লি থেকে আটক করে সেখানকার পুলিশ। ‘বাংলাদেশি’ বলে সীমান্ত দিয়ে তাদের পরে পুশ আউট করে দেওয়া হয়। ভারত থেকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার পরে তারা বাংলাদেশ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি আছেন।









