করাচির ডিফেন্স ফেজ ৬–এর একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার হওয়া পাকিস্তানি অভিনেত্রী ও মডেল হুমায়রা আসগর আলীর মরদেহের পোস্টমর্টেমের প্রাথমিক প্রতিবেদন শুক্রবার গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।
এআরওয়াই নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ সার্জন ডা. সুমাইয়া সাঈদের তত্ত্বাবধানে সম্পাদিত ময়নাতদন্তে ধারণা করা হয়েছে—হুমায়রার মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৮ থেকে ১০ মাস আগে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মরদেহটি ছিল চরমভাবে পচে যাওয়া ও চেনার অযোগ্য অবস্থায়। মূল পর্যবেক্ষণগুলো নিম্নরূপ:
• মরদেহ ছিল অত্যন্ত বিকৃত অবস্থায়
• মুখের পেশিগুলো সম্পূর্ণ পচে গেছে
• আঙুল ও নখ কেবল কঙ্কালাকৃতি অবস্থায় ছিল
• শরীরের বড় অংশে পেশি ছিল না
• কিছু হাড় স্পর্শ করলেই গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছিল
• মস্তিষ্কের টিস্যু সম্পূর্ণ অটোলাইসিসের শিকার
• অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলো কালো, অচেনা ও তরল রূপে পরিণত
• জয়েন্ট কার্টিলেজ অনুপস্থিত
• কঙ্কাল কাঠামোয় কোনো ভাঙচুরের চিহ্ন নেই
• মাথা ও মেরুদণ্ড অক্ষত থাকলেও স্পাইনাল কর্ড অনুপস্থিত
• চুলের মধ্যে বাদামি রঙের পোকা পাওয়া গেছে; কিন্তু পোকামাকড় (ম্যাগট) ছিল না
ডাক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহের পচন এতটাই বেশী ছিল যে মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ এখন নির্ধারণ সম্ভব নয়। ডিএনএ বিশ্লেষণ ও রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য চুল, পোশাক ও রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে।
মরদেহ উদ্ধার করে চিপ্পা ফাউন্ডেশনের হিমঘরে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার তার পরিবার মরদেহ গ্রহণ করে অ্যাম্বুলেন্সে করে লাহোরে নিয়ে যায়। পোস্টমর্টেমে মরদেহের চরম অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে পরিবার মরদেহ গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেছিল বলে সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হুমায়রার ভাই এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
হুমায়রার মৃত্যু সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া আরেকজন প্রবীণ অভিনেত্রী আয়েশা খানের একাকী অবস্থায় মৃত্যু ও ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটালো। এই দুই ঘটনার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানে একাকী মানুষের প্রতি নজরদারি ও সহানুভূতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। –এআরওয়াই নিউজ









