গুরুতর শ্বাসকষ্টে ভুগে বর্তমানে দুই ফুসফুসে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন পোপ ফ্রান্সিস। পোপের ফুসফুস থেকে শ্লেষ্মা পরিষ্কার করছেন ডাক্তাররা বলে জানিয়েছে ভ্যাটিকান।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
৮৮ বছর বয়সী পোপএর শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখার জন্য অক্সিজেন মাস্ক ব্যবহার করা হচ্ছে। ১৮ দিন আগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন পোপ ফ্রান্সিস।
এছাড়া ফুসফুসের বায়ুপথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় হাঁপানি দেখা দিয়েছে তার। চিকিৎসকরা দুটি ব্রঙ্কোস্কোপি করে তার শ্বাসনালির পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তার ফুসফুস থেকে প্রচুর শ্লেষ্মা অপসারণ করা হয়।
রোমান ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ ফ্রান্সিস সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক শারীরিক জটিলতার শিকার হয়েছেন। তরুণ বয়সে প্লুরিসিতে আক্রান্ত হওয়ার কারণে তাঁর একটি ফুসফুসের অংশ কেটে ফেলা হয়েছিল, ফলে তিনি ফুসফুস সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকেন।
দুই ফুসফুসে নিউমোনিয়া একটি মারাত্মক সংক্রমণ, যা প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং শ্বাস নিতে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
সোমবার হাসপাতালে থেকেই তিনি একটি নতুন বার্তা প্রকাশ করেন, যেখানে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর যুদ্ধ প্রতিরোধে ক্রমাগত ব্যর্থতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এদিকে ভ্যাটিকান জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি ১৪ তারিখে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে তার কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করা হয়নি, যা তার ১২ বছরের পোপতন্ত্রের ইতিহাসে দীর্ঘতম অনুপস্থিতি। তবে তিনি হাসপাতাল থেকেই বিভিন্ন নথিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে তিনি কিছুটা কাজ করছেন।
চিকিৎসকরা কবে নাগাদ তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কিছু বলেননি।
বিশ্বব্যাপী তার অনুসারীরা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন। বিশেষ করে রোমে তার চিকিৎসাধীন গেমেলি হাসপাতালে অনেকে ভিড় জমাচ্ছেন এই আশায় যে, তিনি জানালা দিয়ে হাত নেড়ে আশীর্বাদ দেবেন, যদিও বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা এতটাই দুর্বল যে তিনি জনসাধারণের সামনে আসতে পারছেন না। পোপের আধুনিক ও উদারপন্থী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে অনেকেই তাকে ভালোবাসেন, বিশেষ করে তিনি চার্চের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত করেছেন, এমনকি এলজিবিটি+ সম্প্রদায়ের প্রতিও সহানুভূতিশীল ছিলেন।
পোপ ফ্রান্সিস বিশ্বব্যাপী ক্যাথলিকদের কাছে শুধু ধর্মগুরু নন, বরং একজন মানবতাবাদী নেতা হিসেবে পরিচিত। তার অসুস্থতার সংবাদে অনুসারীরা দুঃখিত হলেও, তারা তার আরোগ্যের জন্য প্রার্থনা করছেন। ভ্যাটিকানের মতে, তিনি চিকিৎসকদের সব পরামর্শ অনুসরণ করছেন এবং তার অবস্থা এখনও নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। তবে তার শারীরিক অবস্থা যতদিন পুরোপুরি স্থিতিশীল না হয়, ততদিন উদ্বেগ কাটবে না।









