বাংলাদেশ পুলিশ ব্লাড ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেছেন স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক মানুষের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা।আইনী সেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পুলিশের ভিন্নভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা কোভিডের সময় ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের শিরু মিয়া মিলনায়তনে বাংলাদেশ পুলিশ ব্লাড ব্যাংকের ১৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষীকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। মুখ্য আলোচক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, আজকে পবিত্র ভূমিতে দাঁড়িয়ে কথা বলছি, যেখানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। আমার সামনে যে পুলিশ সদস্যরা বসে আছেন এই বয়সের পুলিশ সদস্যরাই সেদিন রক্ত দিয়েছিলো এই রাজারবাগের মাটিতে। মৃত্যু অবধারিত জেনেও সম্মুখযুদ্ধ করার দুঃসাহস পেয়েছিলো বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ থেকে। বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে যে আহবান জানিয়েছিলেন সেই আহবানে প্রথম সাড়া দিয়েছিলো এই রাজারবাগের পুলিশ।
কমিশনার বলেন, পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ছাত্রদেরও এই ব্লাড ব্যাংকের আওতায় আনবো। রক্তের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ পুলিশ ব্লাড ব্যাংকের অবদান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, করোনাকালীন সময়ে পুলিশ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। করোনার সময় আত্মীয়-স্বজন ও কাছের মানুষ যখন ছেড়ে গিয়েছিলো পুলিশ তখন কাউকে ছেড়ে যায়নি। করোনাকালীন সময়ে পুলিশের যে অবদান শুধু বাংলাদেশেই নয় সারা বিশ্বে পুলিশের অবদান ছড়িয়ে পড়েছে। সেই সময়ে পুলিশ প্লাজমা দিয়ে মুমূর্ষু মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। যা সারা বিশ্বে প্রশংসনীয়।
এর আগে কেক কেটে আজীবন রক্তদাতা হিসেবে পাঁচ শতাধিক ডোনারদের রক্তদান কর্মূচীর উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন ও আমন্ত্রিত অতিথিরা। পরে আজীবন রক্তদাতা হিসেবে নিবন্ধনকৃত সদস্যরা শপথবাক্য পাঠ করেন।
অনুষ্ঠানে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) এ কে এম হাফিজ আক্তার; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) ড. খ. মহিদ উদ্দিন; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস্, ফিন্যান্স এন্ড প্রকিউরমেন্ট) মুহা. আশরাফুজ্জামান; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মুনিবুর রহমান; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ; কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল (সিপিএইচ), রাজারবাগ এর পরিচালক শেখ মো. রেজাউল হায়দার; স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ দাউদ আদনান; যুগ্ম পুলিশ কমিশনারগণ, উপ-পুলিশ কমিশনারগণ ও বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ ব্লাড ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকে রক্ত প্রদানকারী ডোনারদের কাছ থেকে সরাসরি রক্ত সংগ্রহ এবং তা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা ও মুমূর্ষু রোগীকে জরুরিভাবে রক্ত প্রদানসহ নানা মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পুলিশ ব্লাড ব্যাংকে সংগৃহীত রক্ত পুলিশ, জনগণনির্বিশেষে সবাইকে সরবরাহ করা হয়। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ৫১০০ ব্যাগ প্লাজমা সরবরাহ করে করোনায় আক্রান্ত বহু মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাচাঁতে ভূমিকা রেখেছে পুলিশ ব্লাড ব্যাংক। বর্তমানে মহামারি রূপ ধারণ করা ডেঙ্গু আক্রান্ত প্রায় চার হাজারের অধিক মুমূর্ষু রোগীকে প্লাটিলেট সরবরাহ করেছে পুলিশ ব্লাড ব্যাংক।
হাবিবুর রহমান ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি আবার পুলিশ ব্লাড ব্যাংকের আধুনিকায়নে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ নিয়ে সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় পুলিশ ব্লাড ব্যাংককে আরও আধুনিকায়ন করে সেবার মান বৃদ্ধির জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে পুলিশ ব্লাড ব্যাংককে নতুন জায়গায় প্রতিষ্ঠা করা, নতুন অ্যাম্বুলেন্স সংযোজন, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, আজীবন রক্তাদাতাদের তথ্য সংরক্ষণ ইত্যাদি। এ ছাড়া সভায় পুলিশ ব্লাড ব্যাংকে ২৪ ঘণ্টা সেবা দানের জন্য একজন ডাক্তার ও দুজন নার্স নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
‘সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ‘রক্তে মোরা বাঁধন গড়ি, রক্ত দেব জীবন ভরি’এ শ্লোগানকে সামনে রেখে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ২০১০ সালের ১২ ডিসেম্বর চালু করে ‘পুলিশ ব্লাড ব্যাংক’। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ডোনারদের কাছ থেকে রক্ত সংগ্রহ এবং তা সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও মুমূর্ষু রোগীকে জরুরীভাবে রক্ত প্রদানসহ নানাবিধ মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে রাজারবাগে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের ২য় তলায় পুলিশ ব্লাড ব্যাংক’এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।








