প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রাসেলসে দু’দিনব্যাপী গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরাম ২০২৩-এ অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা পেয়েছেন। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত এবং সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিদেরে এক মিলন মেলা। প্রধানমন্ত্রী এর অধিবেশনে যোগ দেন এবং সেখানে তিনি বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রী ফোরামের উদ্বোধনী অধিবেশনে গত ১৫ বছরে দেশের যুগান্তকারী অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জনে তার অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা তুলে ধরেন। আবেগঘন কণ্ঠে তার এই বক্তৃতাকালে অংশগ্রহণকারী অন্য সকলেই মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে তাকে সাধুবাদ জানান।
বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কমিশন আয়োজিত ২৫-২৬ অক্টোবরের গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং সারা বিশ্ব থেকে রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং বেসরকারি খাত, সুশীল সমাজ, অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের প্রতিনিধি ও নেতৃস্থানীয় চিন্তাবিদরা অংশ নেন।
বুধবার ২৫ অক্টোবর ইইউ টুডে এক প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দেশের অর্জন নিয়ে আবেগের সাথে কথা বলেছেন। তিনি বর্তমানে তৃতীয় মেয়াদে সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ জিডিপি বৃদ্ধির হার রয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার বিশ্বের সর্বোচ্চ, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে। যেকোন মানদণ্ডে এটি একটি অবিশ্বাস্য অর্জন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৫তম বৃহত্তম অর্থনীতি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের ৭০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি ১৫ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ৪৬৫ বিলিয়নে উন্নীত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে এনেছি। চরম দারিদ্র্য ২০০৬ সালের ২৫.১ শতাংশ থেকে ৫.৬ শতাংশে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ২০২৬ সালে জাতিসংঘের এলডিসি মর্যাদা থেকে উন্নীত হতে চলেছে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার পিতা বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও জাতির পিতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান পরিবারের অন্য ১৮ জন সদস্যের সাথে ১৯৭৫ সালের আগস্টে বিদ্রোহী সেনা অফিসারদের হাতে নিহত হন। তখন ইউরোপে থাকায় কেবল শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন বেঁচে যান। শেখ হাসিনা নিজেও এরপর থেকে জীবননাশের অনেক চেষ্টা থেকে বেঁচে গেছেন।








