জনগণের উন্নয়ন অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতায় বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মানুষের অধিকার নিশ্চিতকরণের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে সুসংহত করেছে। এটি অব্যাহত রাখতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক সাফল্যমণ্ডিত পদক্ষেপগুলো বিশ্বে সমাদৃত।
শুক্রবার ১৭ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে ‘উন্নয়ন ও গণতন্ত্র’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সরকার মানুষের অধিকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি বৈশ্বিক সহযোগিতা ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
শুক্রবারের এই সভার আয়োজক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সমন্বয়ে গঠিত গবেষণাভিত্তিক সংগঠন ‘এডুকেশন রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (ইআরডিএফবি)’।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, রাজনৈতিক মতের প্রতি পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধই গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র। সামরিক শাসন ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে পুর্নবাসনের মতো রাজনৈতিক ঘটনা এই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে নষ্ট করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিনষ্ট করতে চাওয়ার মাধ্যমে গণতন্ত্রের উপর আঘাতের ঘটনা আমরা অতীতে দেখেছি। এই সকল সংকটই সকল দ্বন্দ্বের উৎপত্তি ঘটিয়েছে।
তিনি বলেন, এ কথা অনস্বীকার্য যে, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন দু’টি একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত। গণতন্ত্রের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী একটি সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই সময়ে এসে নতুন করে সংলাপ নিয়ে যে আলোচনা চলছে তার প্রস্তাব তিনি আগেই দিয়েছিলেন।
সভায় সভাপতিত্বে ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য ও এডুকেশন রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন।
আব্রাহাম লিংকনের গণতন্ত্র ভাবনার উল্লেখ করে আলোচনায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কামরুল আলম খান বলেন, আব্রাহাম লিংকন এমন বলেছেন- কোন রাষ্ট্রে সব জনগণ উন্নয়নের সুফল ভোগ করে স্বাধীন নাগরিক হিসেবে বসবাস করলে, সেই রাষ্ট্রে গণতন্ত্র বিরাজমান বলে বিবেচনা করা যায়। প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগণের কল্যাণে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন তা কারও অজানা নয়। তার অর্থনৈতিক সাফল্যমণ্ডিত পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর রিপোর্টেও এসেছে।
বাংলাদেশের সরকার মানুষের অধিকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি বৈশ্বিক সহযোগিতা ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে উল্লেখ করে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, কর্মসংস্থান, যোগাযোগে উন্নতি এবং আত্মনির্ভরতা অর্জনের সুফল বাংলাদেশের মানুষ ভোগ করছে। গণতান্ত্রিক চর্চা সুষ্ঠু থাকলে মানুষ এসব সুফল ভোগ করে।
ইআরডিএফবি’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. বদরুজ্জামান ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় সভার আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও ইআরডিএফবি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল কবীর, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. সেলিনা আখতার প্রমুখ।







