অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, প্লাস্টিক ও পলিথিন বন্ধের বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিলে এর গুরুত্ব না বুঝে অনেকেই হাসাহাসি করেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এই প্লাস্টিকই মানুষের অস্তিত্ব নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে।
বুধবার (২৫ জুন) রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস এবং পরিবেশ ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোকে দখলমুক্ত করার কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখায় ৩১টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে বিশেষ পুরস্কার দেয়া হয়েছে।
দেশ তথা পুরো বিশ্বকে বাঁচাতে সপ্তাহে একদিনের জন্য হলেও প্লাস্টিক বর্জনের আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব সরকারের ওপর তুলে দিয়ে জনগণ নির্ভার থাকবে-বিষয়টি এমন নয়। আমাদের পুরোনো কবিরা বলে গেছেন, সাগরের সব পানি যদি কালি হতো, বনের সব গাছ যদি কলম হতো, তাহলে এই অপরাধের বর্ণনা শেষ করা যেতো না। একই অপরাধ আমরা করে যাচ্ছি প্রতিদিন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্লাস্টিকের ব্যবহার পৃথিবীতে তিন ধরনের সংকট বাড়িয়ে দিয়েছে। জলবায়ুগত সংকট, প্রকৃতিগত সংকট ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি। এটা শুধু প্লাস্টিকের জন্য, আরো বহু জিনিস আছে। প্লাস্টিক ক্রমাগত হুঙ্কার দিচ্ছে, হয় আমরা থাকবো, না হয় তোমরা থাকবে। দুইজন একসঙ্গে থাকতে পারবে না। তাদের জয়যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। তারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাসছে আর আমাদের অসহায়ত্ব দেখছে। আমাদের উদ্যোগের অভাব দেখছে। আমরা (প্লাস্টিক) সব জয় করে নিলাম, তোমরা কিছুই করতে পারলে না। এই অসহায়ত্বের মধ্যে আমরা ২০২৫ সালে এই দিবস পালন করছি।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনা ঠিকঠাক না থাকায়, পৃথিবীর জলাশয়গুলো পলিথিন ও প্লাস্টিকে ছেয়ে গেছে। জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়ছে। প্লাস্টিক এমন এক জিনিস, যার জন্ম আছে মৃত্যু নেই। পৃথিবীর সব কিছুর মৃত্যু আছে, তার মৃত্যু নেই। এসব ক্রমাগত বাড়ে, ফলে তা সবকিছু জয় করে ফেলে। আমরা দিবস উদযাপন করে ঘরে ফিরে যাব, যথারীতি প্লাস্টিক ব্যবহার করব।









