ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার শান্তিচুক্তি প্রায় ৯০ শতাংশ প্রস্তুত। নববর্ষ উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, বাকি ১০ শতাংশই শান্তির ভবিষ্যৎ, ইউক্রেন ও ইউরোপের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রায় ৪ বছর ধরে চলা সংঘাত প্রসঙ্গে জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন যেকোনো মূল্যে শান্তি চায় না। আমরা যুদ্ধের অবসান চাই ইউক্রেনের অবসান নয়। তিনি বলেন, পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস অঞ্চল থেকে ইউক্রেনের সরে যাওয়া মানে সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়া, যা রাশিয়ার সর্বোচ্চ দাবিরই প্রতিফলন।
ডনবাসের অন্তর্ভুক্ত ডোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং পার্শ্ববর্তী লুহানস্কের প্রায় ৯৯ শতাংশ বর্তমানে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। এই অঞ্চলগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েই শান্তি আলোচনায় সবচেয়ে বড় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
ভাষণে জেলেনস্কি ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়া দেশগুলোর নেতাদের ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, কেবল প্রতিশ্রুতি নয় সেগুলোকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় রূপ দিয়ে অনুমোদন দিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দুর্বল চুক্তিতে সই যুদ্ধকে উসকে দেয়।
এদিকে নববর্ষের ভাষণে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার সেনাদের উদ্দেশে বলেন, আমরা আপনাদের ওপর বিশ্বাস রাখি এবং আমাদের বিজয়ে বিশ্বাস করি। ইউক্রেন যুদ্ধকে মস্কো এখনো বিশেষ সামরিক অভিযান বলে উল্লেখ করছে।
এর আগে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) মস্কো দাবি করে, ইউক্রেন ড্রোন ব্যবহার করে উত্তর-পশ্চিম রাশিয়ার লেক ভালদাইয়ে পুতিনের ব্যক্তিগত বাসভবন লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করেছে। কিয়েভ এ অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। ক্রেমলিন বলেছে, এ ঘটনায় শান্তি আলোচনায় তাদের অবস্থান পর্যালোচনা করা হবে।
তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক কাজা কালাস রাশিয়ার এ দাবিকে ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি বলে আখ্যা দেন এবং শান্তি প্রক্রিয়া বানচালের চেষ্টা বলে মন্তব্য করেন।
জেলেনস্কি জানান, চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু ও দ্রুততর করতে চান তিনি।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ৬ জানুয়ারি প্যারিসে ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় দেশগুলো বাস্তব অঙ্গীকার করবে।
অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন নববর্ষ বার্তায় মস্কোর সঙ্গে অজেয় জোট-এর প্রশংসা করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়াকে সহায়তায় হাজারো উত্তর কোরীয় সেনা পাঠানো হয়েছে, যাদের অন্তত ৬০০ জন নিহত হয়েছেন।
সবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানান, যুদ্ধ বন্ধ ও পুনরায় শুরু ঠেকাতে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা জোরদার এবং কার্যকর সমন্বয়ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে যে কোনো চুক্তির জন্য রাশিয়ার সম্মতি অপরিহার্য যা এখনও অনিশ্চিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।









