১৯৮৪, সার্জেই বাবকা পোল ভল্টের বিশ্বরেকর্ড গড়েন ৫.৮৫ মিটারের লাফে। পরে ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৪, একদশকে ভল্টে রেকর্ড ভেঙেছেন ১৭ বার। ফ্রেঞ্চ রেনাউড লাভিলেনি যা ছুঁয়ে ফেলেন ২০১৪ সালে, ১৬.১৬ মিটার লাফে। তাদেরকে টেক্কা দিতে সেন্টিমিটার থেকে সেন্টিমিটারে ভল্টের ময়দানে আবির্ভাব সুইডেনের অ্যাথলেট আরমান্ড দুপলান্তিসের।
ছয় বছর অক্ষত থাকা লাভিলেনির সেই লাফটি অতিক্রম করেন দুপলান্তিস, ২০২০ ফেব্রুয়ারিতে। তখন তার বয়স ২০। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পরের পাঁচ বছরে নিজের রেকর্ডই ভেঙেছেন বারবার। সেটিও একবার দুবার নয়, একে একে ১৩ বার।
লাভিলেনির রেকর্ডটি ভাঙার এক সপ্তাহের কম ব্যবধানে ছুঁয়ে ফেলেন ৬.১৮ মিটার। এ যেন নিজের সঙ্গেই লড়াই দুপলান্তিসের। যদি প্রতি একবছরে বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছেন গড়ে তিনবার করে।
দুপলান্তিস চলতি বছরেও বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছেন তিনবার। শেষ হাঙ্গেরিয়ান গ্র্যান্ড প্রিক্সে পোল ভল্টে ৬.২৯ মিটারের লাফে নিজের ৬.১৭ মিটারের লাফটির রেকর্ডকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।
চলতি বছরে দুপলান্তিসের কাছাকাছি আসতে পেরেছেন ইমানুয়েলি কারালিস। সেটিও ৬.০৮ মিটার উচ্চতা ছুঁয়েছেন আগস্টে। এখনও বর্তমানের সবার চেয়ে ২০ সেন্টিমিটার উপরে আছেন দুপলান্তিস।

টোকিওতে শুরু হয়েছে ২০২৫ বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ। অংশ নেবেন ২৫ বর্ষী দুপলান্তিস। পারবেন ৬.৩০ মিটার ছুঁতে? আশা এখানে ছুঁয়ে ফেলবেন সেই উচ্চতা কিংবা তারও বেশি।
লুজিয়ানা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড কোচ টড লেন বলেছেন, দুপলান্তিসের ভাই আন্দ্রেসকে অনুশীলনের সময় থেকেই তাকে চিনতাম। তার মতো বিশ্বের কেউই ভল্টের ময়দানে বেশি সময় কাটান না। দুপলান্তিসের মতো তার দুই ভাই ও এক বোন পেশাদার পোল ভল্টার। একইসঙ্গে বেড়ে ওঠা তাদের।

ছোট বোন জোহানা দুপলান্তিসকে নিয়ে বলেছেন, ‘যদি তার মনের ভেতর কিছু চলতে থাকে তা সে করেই ফেলে। আমরা সবাই বাড়ির পেছনে একসঙ্গে লাফাতাম। ওটাই আমাদের খেলার মাঠ ছিল। আমাদের বাবা আমাদের পোল ভোল্টের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর থেকে আমরা এটির প্রেমে পড়ে যাই। যা ডোমিনো ইফেক্টের মতোই।’
বয়সভিত্তিক রেকর্ডের হিসেবে দুপলান্তিসের রয়েছে অনন্য অর্জন। ৭ বছর বয়সে ২.৩৩। আটে ২.৮৯, নয়ে ৩.২০, দশে ৩.৮৬, এগারোতে ৩.৯১। ১২ বছর বয়সে তা ৩.৯৭। ১৭ বছর বয়সে ৫.৯০। ৬ মিটারের উচ্চতা তখন ছুঁতে না পারলেও ১৮ বছর বয়সে ৬.০৫ এর উচ্চতা ছুঁয়ে ফেলেন তিনি।
এবছরের জুনে গ্রান্ড প্রিক্সে বিশ্বরেকর্ডটির আগে স্টকহোমে ডায়মন্ড লিগে দুপলান্তিস পাড়ি দেন ৬.২৮ মিটার। যদিও উচ্চ, দীর্ঘ ও ট্রিপল জাম্পের বিশ্বরেকর্ডটি নব্বইয়ের দশকে গড়া। কিন্তু পোল ভোল্ট আলাদা, ১৯৯৪ সালের পরে ১৪ বার এটির বিশ্বরেকর্ড ভাঙা হয়েছে। যার ১৩ বারই করে দেখিয়েছেন দুপলান্তিস।

অলিম্পিক ব্রোঞ্চ পদকজয়ী হলি ব্রাডশ বলেছেন, ‘যেসব আসরে দুপলান্তিস ৬.১০ মিটারের উপরে লাফিয়েছেন, তখনই তাকে থামানো উচিত। বিশ্বরেকর্ড যাতে ভাঙতে না পারেন।’
ব্রিটিশ রেকর্ডধারী সাবেক কেট রুনি বলেছেন, ‘তিনি যদি ৬.৩৫ মিটারের লাফ দিতেন। কিংবা ৬.১০ মিটারের লাফই দিতেন, তাহলে আর আকর্ষণ থাকতো না। তিনি পোল ভল্টকে রীতিমতো রোমাঞ্চে ধারণ করেছেন।’
এবারের বিশ্বচ্যম্পিয়নশিপে পোল ভল্টের বাছাই ১৩ সেপ্টেম্বর। অংশ নেবেন দুপলান্তিসসহ ১৮ অ্যাথলেট। যার ফাইনাল গড়াবে ১৫ সেপ্টেম্বর। দুপলান্তিসের দিকে চোখ সবার, হয়ত আরও এক সেন্টিমিটার অতিক্রম করে ফেলবেন!









