ফ্রান্সের যুব দলের হয়ে খেলে এখন বাস্কেটবলের তারকা খেলোয়াড় দিয়াবা কোনাতে। প্যারিস অলিম্পিকে মেয়েদের বাস্কেটবল ইভেন্টে অংশ নিয়ে তিনি গর্বিত হতে পারতেন। অথচ ফ্রান্সের আইনে কোনো মুসলিম নারী হিজাব পরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় ২৪ বর্ষী অ্যাথলেট অলিম্পিকে খেলতে পারবেন না।
আন্তর্জাতিক বাস্কেটবল ফেডারেশন (এফআইবিএ) ২০১৭ সালে মুসলিম নারীদের হিজাব পরার উপর বিশ্বব্যাপী নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে। বাস্কেটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন পদক্ষেপ সত্ত্বেও ফ্রেঞ্চ ফেডারেশন অফ বাস্কেটবল (এফএফবিবি) সেই নির্দেশ অনুসরণ করেনি। উল্টো ধর্মনিরপেক্ষতার দোহাই দিয়ে সরকারি স্কুল এবং রাষ্ট্রের সাথে যুক্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় অনুষঙ্গ প্রকাশ করে এমন প্রতীক বা পোশাক পরা নিষিদ্ধ করে।
নিয়মটি কার্যকরভাবে খেলাধুলায় হিজাব পরা যে কাউকে প্রতিযোগিতামূলক আসরে অংশগ্রহণ থেকে ছিটকে দেয়। এমন নিষেধাজ্ঞা কেবল মাঠের খেলোয়াড়দেরই শুধু নয়, কোচ এবং রেফারিদেরও প্রভাবিত করে।
গত সেপ্টেম্বরে ফ্রান্সের ক্রীড়া মন্ত্রী অ্যামেলি ওউদিয়া-কাস্তেরা ঘোষণা করেন, ফরাসি ক্রীড়াবিদদের হিজাব পরা অবস্থায় প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার অনুমতি দেয়া হবে না। এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটিকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছিল। তাতেও ফ্রান্স তাদের অনড় অবস্থান থেকে সরেনি।
আইওসি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, অন্যান্য দেশের মুসলিম ক্রীড়াবিদদের অলিম্পিকে প্রতিযোগিতার সময় হিজাব পরার অনুমতি দেয়া হবে। তবে ফরাসি ক্রীড়াবিদদের ‘ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি’ এবং ‘সরকারি পরিষেবাগুলোতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার’ ধারণাকে সমর্থন করতে হবে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল চলতি মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে হিজাব নিষিদ্ধকে বৈষম্যমূলক এবং ভণ্ডামি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের অলিম্পিককে প্রথমবার পুরুষ-নারীর সমতার অলিম্পিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবুও মুসলিম নারীদের প্রতি বৈষম্য এবং তাদের আলাদা করা হচ্ছে।
কোনাতে ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। এ ঘটনায় তার মাঝে হতাশা স্পষ্ট ছিল। গত মাসে জুমের মাধ্যমে এক সাংবাদিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘ফ্রান্সের প্রেক্ষাপট আমাকে স্নায়ুর চাপে ফেলে। এটা খুবই হতাশাজনক।’
‘আমাকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। বাস্কেটবল খেলতে সক্ষম হলেও শুধুমাত্র একজন মুসলিম নারী হিসেবে আমার ধর্মীয় পরিচয় ও হিজাব পরা পছন্দের কারণে৷ আমি সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাস প্রকাশ করতে পারি না এবং আমার অ্যাথলেটিক আকাঙ্খা অনুসরণ করতে পারি না।’
অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, ‘ফ্রান্সের হিজাব নিষেধাজ্ঞা কেবল বৈষম্যমূলক নয়। তারা কার্যকরভাবে মুসলিম নারী ও মেয়েদেরকে বিনোদনের জন্য বা পেশা হিসেবে খেলাধুলায় সম্পূর্ণভাবে অংশগ্রহণ থেকে বিরত করছে। এটি তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যসহ ব্যক্তিগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ফরাসি বাস্কেটবল খেলোয়াড় এবং মানবাধিকার আইনজীবী হেলেন বা জুম সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এটি অলিম্পিক সনদের মূল্যবোধ এবং বিধানের স্পষ্ট লঙ্ঘন। আমাদের মৌলিক অধিকার এবং স্বাধীনতারও লঙ্ঘন।’
‘এটি আমাদের বিবেক এবং ধর্মের স্বাধীনতা এবং খেলাধুলায় অংশগ্রহণের আমাদের অধিকারকে লঙ্ঘন করে। এটি লিঙ্গ এবং জাতিগত উসকানিগুলোকে শক্তিশালী করে এবং মুসলিম বিরোধী বিদ্বেষকে প্রকাশ করে। ইতিমধ্যেই ফরাসিদের সমাজের কিছু অংশে তা ছড়িয়ে পড়েছে।’









