লোকসংগীতের দেশবরেণ্য শিল্পী ফরিদা পারভীনের মৃত্যুতে সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষরা বলছেন, লোকসংগীতের পাশাপাশি ফরিদা পারভীন লালন ও দেশাত্মবোধক গানেও সমান পারদর্শী ছিলেন। তার মতো কালজয়ী শিল্পী আর আসবে না।
শোক প্রকাশ করে কিংবদন্তী রুনা লায়লা বলেন, খ্যাতিমান লালনগীতি শিল্পী ফরিদা পারভীনের মৃত্যু আমাদের এবং সংগীত জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আল্লাহ তাঁর আত্মাকে চিরশান্তি দান করুন। আমিন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি রইল আমার গভীর সমবেদনা।
মনির খান বলেন, আজ খাঁচা থেকে চিরতরে চলে গেলেন লালনকন্যা খ্যাত লোকসংগীতের বরেণ্যশিল্পী আমাদের ফরিদা পারভীন আপা। আপা আমাকে খুব স্নেহ করতেন। আর এই স্নেহ ভরা হাসিমুখটি দেখা হবে না। দোয়া করি আল্লাহ যেন আপনাকে জান্নাতবাসী করেন।
কনক চাঁপা বলেন, লালনগীতির কিংবদন্তি শিল্পী সাধক ফরিদা পারভীন আপা চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন, তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা রইলো। সারাজীবন লালন সংগীত শুনতে হলে ফরিদা পারভীনের গান শুনতে হতো। আরও দীর্ঘদিন দেশেরর জন্য, গানের জন্য ফরিদা আপার বাঁচার দরকার ছিল, কিন্তু আল্লাহ তার হায়াত এই পর্যন্ত রেখেছিলেন।
শাকিব খান বলেন, দেশবরেণ্য শিল্পী ফরিদা পারভীনের মৃত্যতে গভীর শোক প্রকাশ করছি। তিনি ছিলেন আমাদের লালনগীতি, নজরুল সংগীত এবং দেশাত্মবোধক গানের এক উজ্জল দীপ্তি, যার কণ্ঠে ছিল বাংলার মাটি, মানুষের আত্মা ও সংস্কৃতির স্পন্দন। তার অনন্য সাধনা ও সুরের ছোঁয়া চিরকাল আমাদের মাঝে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী কোনাল বলেন, এই বৃষ্টির কান্নার মতন, আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, যেখানেই থাকেন সেখানেই, শ্রদ্ধেয় ফরিদা পারভীন ম্যাডাম। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন।
সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এক শোকবার্তায় উপদেষ্টা বলেন, তাঁর প্রয়াণে দেশের সংগীতাঙ্গন এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হলো। লালন সংগীতসহ বাংলার গান তিনি সযত্নে ধারণ ও প্রচার করেছেন। তাঁর কণ্ঠে লালনের গান শুধু সুরেলা আবেগেই ভাসায়নি, আমাদের সংস্কৃতির অন্তর্লীন দর্শন ও জীবনবোধকেও নতুন মাত্রায় তুলে ধরেছিল। তাঁর শিল্পচর্চা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে প্রেরণা জুগিয়েছে।
ফরিদা পারভীনের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। আমি মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন ফরিদা পারভীন। কয়েক দফায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। সবশেষ ২ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন এই বরেণ্য শিল্পী। এরপর থেকেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া দশটায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭১ বছর৷









