নির্ধারিত সময়ে স্কোরলাইন ছিল ১-১। টাইব্রেকারে গড়ায় আর্জেন্টিনা ও ইকুয়েডরের কোয়ার্টার ফাইনাল। পেনাল্টি শ্যুটআউটে প্রথম শট নিতে এসে গড়বড় করে বসেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন মহাতারকার নেয়া পানেনকা শট পোস্টের উপরের বারে লেগে বেরিয়ে যায়। যদিও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের বীরত্বে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে আলবিসেলেস্তে দল।
মেসি শট মিসের পর হতাশায় মাথায় হাত দেন। ইকুয়েডর গোলরক্ষক অ্যালেক্সান্ডার ডমিনগুয়েজ এগিয়ে এসে মহাতারকাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন। এরপর সতীর্থদের কাছে গিয়ে তাদের জড়িয়ে ধরেন।
চেকোস্লোভাকিয়ার ফুটবলার অ্যান্তোনিন পানেনকার নামানুসারে পানেনকা শটের নামকরণ করা হয়। ১৯৭৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে সর্বপ্রথম পানেনকা শট দেখে বিশ্ব। ইউরোতে প্রথমবার সেই আসরে টাইব্রেকারে শিরোপা নির্ধারণী হয়েছিল। পানেনকার শটটি ফুটবল ইতিহাসের পাতায় অমরত্ব লাভ করে।
পেনাল্টিতে পানেনকা শট নেয়া বেশ ঝুঁকির কাজ। গোলরক্ষককে বোকা বানানোর কৌশলটাই এখানে মূল বিষয়। এটি প্রথাগত কোনো শট নয়। অন্যান্য শটে থাকে গোলরক্ষককে গতিতে পরাস্ত করার উদ্দেশ্য, আর পানেনকা শটের মূল অস্ত্রই ধীরগতিতে বল জড়ানো।
পানেনকা শটে পেনাল্টি কিক নেয়া ফুটবলার বলকে সোজাসুজিভাবে আলতো টোকায় জালে জড়ানোর চেষ্টায় থাকেন। গোলরক্ষক ডান কিংবা বাঁ-প্রান্তে ঝাঁপ দেবেন, আর বল তার চোখের সামনে দিয়ে জালে জড়াবে, এটাই পানেনকা শটের মূল কাজ। কাজটা ঠিকঠাক করতে না পারলে পানেনকা শট হাস্যকর ভুলে পরিণত হতে পারে।









