বিভিন্ন উপায়ে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভারতীয় সমরিক অফিসার বা জওয়ানদের ফাঁদে ফেলে থাকে পাকিস্তানি হ্যাকাররা। অনেক ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সামরিক অফিসারদের অ্যাকাউন্টও হ্যাক করা হয়। এসব হ্যাকারদের একটি নেটওয়ার্ক সম্প্রতি চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে এই হ্যাকাররা ভারতীয় অফিসারদের ফাঁদে ফেলত।
বৃহস্পতিবার (৪ মে) ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়। এতে বলা হয়েছে, চিহ্নিত হ্যাকারদের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে মেটা পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে।
হ্যাকারদের ওই নেটওয়ার্কের অধীনে শতাধিক ভুয়া ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট রয়েছে বলেও জানায় সংস্থাটি।
এদিকে ভারত থেকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, চিন, শ্রীলঙ্কা, তিব্বতে বিভিন্ন সামরিক কর্তা এবং স্বেচ্ছেসেবী সংগঠনকে হ্যাক করা একটি নেটওয়ার্ককেও চিহ্নিত করেছে মেটা। এই নেটওয়ার্কের নাম প্যাচওয়ার্ক।
মেটার কার্যালয় থেকে এক বিবৃতি প্রকাশ করে বলা হয়েছে, ‘আমরা পাকিস্তানের একটি হ্যাকিং গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত প্রায় ১২০টি ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। এগুলো মূলত ভারত ও পাকিস্তানের লোকেদের নিশানা করত। ভারতের সামরিক কর্মী এবং পাকিস্তান বিমান বাহিনীর সদস্যরা এই গোষ্ঠীর শিকার হয়েছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আমাদের তদন্তে উঠে এসেছে যে পাকিস্তানের সরকার বা প্রশাসন এই গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত রয়েছে।’ এই গোষ্ঠীগুলো ম্যালওয়্যার এবং ভাইরাস পাঠিয়ে হ্যাক করত। এদিকে ভারতের ‘প্যাচওয়ার্ক’ গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত ৫০টি অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে মেটা ব্যবস্থা নিয়েছে। এই গোষ্ঠীর ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো থেকে ব্রিটিশ বা আরবের সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন মানুষকে টার্গেট করা হত।
এদিকে সম্প্রতি পাকিস্তানি জঙ্গিদের ব্যবহৃত বেশ কিছু অ্যাপ ভারত সরকার নিষিদ্ধ করে। এই অ্যাপগুলো ব্যবহার করে ভারতে তাদের সহযোগীদের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখত পাকিস্তানের জঙ্গিরা। রিপোর্ট অনুযায়ী, নিষিদ্ধ অ্যাপগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রিপভাইজার, এনিগমা, সেফউইস, উইকরমি, মিডিয়াফায়ার, ব্রায়ার, বিচ্যাট, নন্দবক্স, কনিয়ন, আইএমও, এলিমেন্ট, সেকেন্ড লাইন, ঝাঙ্গি এবং থ্রিমা।
উল্লেখিত মোবাইল অ্যাপগুলোর মাধ্যমে সরকারের নজরদারি এড়িয়ে পাকিস্তানে তথ্য পাঠাত জঙ্গিরা। আবার সেখান থেকে এই অ্যাপগুলোর মাধ্যমে তথ্য ভারতে পাঠাত পাক জঙ্গিরা। এমন সন্দেহে নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থা এই অ্যাপগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার সুপারিশ করেছিল কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। সেই সুপারিশ মেনেই কেন্দ্রের তরফে এই ১৪টি অ্যাপ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।







