স্থগিত প্রকল্পগুলি পুনরুদ্ধার করে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের শঙ্কট কাটিয়ে উঠতে অঙ্গীকার করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। সম্প্রতি সেদেশে মারাত্মক বিদ্যুত সঙ্কটে মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
শুক্রবার বিদ্যুতের ঘাটতি নিরসনের প্রচেষ্টার মূল্যায়নের জন্য একটি সভায় সভাপতিত্ব করার সময় তিনি বলেন, ভোক্তাদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে। বিগত সরকারের আমলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, ১৫ বছরের মেয়াদে ১৩ শতাংশ হারে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের জন্য কাতারের সাথে স্বচ্ছ ও সস্তা চুক্তি বাতিল করা বিগত সরকারের পক্ষ থেকে বড় অবহেলা।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, গত চার বছরে ইচ্ছাকৃতভাবে সস্তায় গ্যাস কেনার সুযোগ হাতছাড়া করা হয়েছে। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ সরকারের উদাসীনতার কারণে হাভেলি বাহাদুর শাহে ১২৫০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি আর্থিক চ্যালেঞ্জের দিকে নিয়ে গেছে এবং দেশের উন্নয়নের গতি কমিয়ে দিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের সম্প্রচার মাধ্যম জিও তাদের অনলাইন মাধ্যমে এক প্রতিবেদনে জানায়, টেলিকম অপারেটররা তাদের মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধে সতর্কতা জারি করেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাট প্রকট আকার ধারণ করায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে শীর্ষ কয়েকটি টেলিকম অপারেটর।
পাকিস্তানের ন্যাশনাল ইনফরমেশন টেকনোলজি বোর্ডও (এনআইবিটি) টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানিয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কার্যক্রম পরিচালনায় নানা বাধা ও সমস্যা কারণে এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের চিন্তা-ভাবনা চলছে।
এর আগে গত সোমবার (২৭ জুন) প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ পাকিস্তানবাসীকে সতর্ক করে জানান, জুলাইয়ে ঘন ঘন লোডশেডিং হতে পারে। প্রয়োজনীয় পরিমাণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ না পাওয়া এমন বিড়ম্বনার শিকার হতে হবে নাগরিকদের। দ্রুত এ সেবা পেতে চেষ্টা করে যাচ্ছে তার জোট সরকার।
এদিকে, দেশটিতে চলমান তাপদাহে নাগরিক জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। ফলে বিদ্যুতের চাহিদাও ব্যাপক। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এলএনজি কিনতে অনেকটা যুদ্ধ করে যাচ্ছে পাকিস্তানের বর্তমান সরকার। চলতি মাসের জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের চুক্তিতে সম্মত না হওয়ায় পাকিস্তানে বিদ্যুৎ সংকট কেবল বেড়েই চলেছে। তবে, লোডশেডিং মোকাবিলায় শেহবাজ সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।









