সীমান্ত সংঘর্ষে একে অপরকে দায়ী করার পর পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শান্তি আলোচনার অগ্রগতি থমকে গেছে।
শনিবার (৮ নভেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার আলোচনার সর্বশেষ অবস্থা প্রকাশ করেন। এর আগে এক আফগান কর্মকর্তা দাবি করেন, যৌথ আলোচনার মাঝেই সীমান্তে পাকিস্তান ও আফগান বাহিনীর সংঘর্ষে চারজন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
কাবুল থেকে পাকিস্তানের দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য আসেনি।
তুরস্ক ও কাতারের মধ্যস্থতার ভূমিকাকে ধন্যবাদ জানিয়ে এক বিবৃতিতে আতাউল্লাহ তারার বলেন, আফগান তালেবান ২০২১ সালের দোহা শান্তি চুক্তির অধীনে সন্ত্রাসবাদ দমনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, পাকিস্তান এমন কোনো পদক্ষেপকে সমর্থন করবে না, যা আফগান জনগণ বা প্রতিবেশী দেশগুলোর স্বার্থবিরোধী।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ইসলামাবাদ শান্তি ও সদিচ্ছা বজায় রাখতে চায়, তবে দেশের জনগণ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের স্পিন বোলদাকের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান আলী মোহাম্মদ হকমাল গুলি চালানোর জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছেন। তবে তিনি বলেন, ইস্তাম্বুলে শান্তি আলোচনার মধ্যে আফগান বাহিনী কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি দাবি করেছেন, গুলি চালানোর উদ্যোগ আফগান বাহিনীর দিক থেকেই এসেছে। পাকিস্তান চলমান সংলাপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আফগান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও একই মনোভাব প্রত্যাশা করে বলেও তিনি জানান।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, যুদ্ধবিরতি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বহাল রয়েছে।
বর্তমানে আলোচনায় পাকিস্তানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আসিম মালিক। অপরদিকে আফগান পক্ষের নেতৃত্বে আছেন জেনারেল ইন্টেলিজেন্স প্রধান আব্দুল হক ওয়াসিক। পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা সীমান্তে সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করার একক লক্ষ্য নিয়েই মধ্যস্থতাকারীদের কাছে তাদের দাবি উপস্থাপন করেছে।
টানাপোড়েনের পটভূমি
ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তান সশস্ত্র গোষ্ঠী—বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) আশ্রয় দিচ্ছে, যারা নিয়মিতভাবে পাকিস্তানে হামলা চালায়। তবে আফগান তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর বহু টিটিপি নেতা ও যোদ্ধা আফগান মাটিতে আশ্রয় নিয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ফলে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
গত সপ্তাহে তুরস্ক জানায়, শান্তি বজায় রাখতে এবং লঙ্ঘনের দায় নির্ধারণে উভয় পক্ষ একটি পর্যবেক্ষণ ও যাচাইকরণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সম্মত হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ৯ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে আফগান সীমান্ত অঞ্চলে অন্তত ৫০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৪৪৭ জন আহত হয়েছেন। কাবুলে বিস্ফোরণে আরও ৫ জন নিহত হয়েছে। যার দায় পাকিস্তানের ওপর দিয়েছে তালেবান সরকার।
অন্যদিকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের ২৩ জন সেনা নিহত ও ২৯ জন আহত হয়েছেন। তবে কোনো বেসামরিক হতাহতের তথ্য দেয়নি।









