৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা সেতু চালু হওয়ার ৪৩ মাসে টোল বাবদ আয় ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে আজ মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত এই টোল আদায় হয়েছে।
সব ধরনের যানবাহনের জন্য পদ্মা সেতু পারাপারে টোল নির্ধারিত রয়েছে। মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস ও ট্রাকসহ যানবাহনের ধরন অনুযায়ী টোলের হার আলাদা।
সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, বর্তমানে পদ্মা সেতু দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২২ হাজার যানবাহন চলাচল করছে। এতে দৈনিক গড়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা টোল আদায় হচ্ছে। শুধু গত ডিসেম্বর মাসেই টোল থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৮২ কোটি টাকা।
মুন্সিগঞ্জ ও শরীয়তপুরকে সংযুক্তকারী দেশের দীর্ঘতম এই সেতু দক্ষিণ ও দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে। এর ফলে ২১টি জেলার মানুষ সেতুটির সুফল পাচ্ছেন।
সেতু চালুর প্রায় চার বছরে যানবাহন চলাচল ও টোল আয় ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে, পদ্মা সেতু চালুর ফলে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং শিল্পজাত পণ্য পরিবহনে এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন।

পদ্মা সেতুর দুই প্রান্ত—মাওয়া ও জাজিরা—টোল প্লাজায় ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা চালু রয়েছে। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেনটিফিকেশন (আরএফআইডি) কার্ডের মাধ্যমে যানবাহন না থামিয়েই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায় করা হচ্ছে। এতে যানজট কমার পাশাপাশি পারাপার আরও দ্রুত ও সহজ হয়েছে।
সেতু কর্তৃপক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে টোল আদায়ে এই ‘মাইলফলক’ অর্জনের জন্য যানবাহনের মালিক, চালক ও শ্রমিকদের পাশাপাশি সেতুর দুই প্রান্তের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। ২০০৭ সালে প্রকল্পটি গ্রহণের সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। পরবর্তীতে একাধিকবার প্রকল্প সংশোধনের ফলে ব্যয় বৃদ্ধি পায়।
নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় ঋণ হিসেবে সেতু কর্তৃপক্ষকে অর্থ দিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ৩৫ বছরে ১ শতাংশ সুদে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। তিন মাস পরপর কিস্তিতে মোট ১৪০ কিস্তিতে সুদ ও আসল পরিশোধ করা হবে।
সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, টোল থেকে আদায় করা মোট অর্থের ১৫ শতাংশ ভ্যাট হিসেবে সরকারি কোষাগারে জমা হয়। এরপর টোল আদায়ের জন্য নিয়োজিত ঠিকাদারদের ব্যয় পরিশোধ করা হয়। পাঁচ বছরের জন্য কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়েকে ৬৯৩ কোটি টাকায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের খরচও বহন করতে হচ্ছে।
এই সব ব্যয় বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অর্থ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা হচ্ছে।









