ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে। কয়েক মাস ধরে চাপ তৈরির পর মার্কিন বিশেষ বাহিনী ‘ডেল্টা ফোর্স’–এর অভিযানে মাদুরো ও তাকে স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি—মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত ছিলেন মাদুরো। তবে রাশিয়া, চীন ও ইরান একে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ওপর আগ্রাসন বলে নিন্দা জানিয়েছে।
মাদুরোকে তুলে নেওয়ার এ ঘটনা নজিরবিহীন মনে হলেও ইতিহাস বলছে—এটি যুক্তরাষ্ট্রের এধরনের প্রথম অভিযান নয়।
নরিয়েগা: মিত্র থেকে শত্রু
১৯৮৯ সালে পানামায় হামলা চালিয়ে সামরিক শাসক ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্র। একসময় সিআইএ ঘনিষ্ঠ এই নেতা পরে মাদক পাচার ও ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অভিযোগে ওয়াশিংটনের শত্রুতে পরিণত হন। ভ্যাটিকান দূতাবাসে লুকিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত মানসিক চাপের কাছে হার মানেন নরিয়েগা। যুক্তরাষ্ট্রে বিচার হয়ে তার বাকি জীবন কাটে কারাগারে।
সাদ্দাম হোসেন: গণবিধ্বংসী অস্ত্রের অজুহাত
২০০৩ সালে ইরাকে হামলা চালিয়ে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে যুক্তরাষ্ট্র। গণবিধ্বংসী অস্ত্রের অভিযোগ প্রমাণিত না হলেও তাকে গ্রেপ্তার করে ফাঁসি দেওয়া হয়। এর ফলে ইরাক জুড়ে দীর্ঘস্থায়ী সহিংসতা ও লাখো বেসামরিক মানুষের মৃত্যু।
হুয়ান অরল্যান্ডো: অভিযোগ একই, মাদক
হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো এরনান্দেজকে ২০২২ সালে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্র। একসময় বিশ্বস্ত মিত্র হলেও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিচারে ৪৫ বছরের সাজা পান তিনি। পরে ট্রাম্পের ক্ষমায় মুক্তি পান।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদুরোকে তুলে নেওয়া কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ইতিহাস বলছে, যখনই কোনো রাষ্ট্রপ্রধান যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বাইরে যান, তখনই শুরু হয় চাপ, নিষেধাজ্ঞা, আর শেষ পর্যন্ত সামরিক বা আইনি অভিযান। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—এগুলো কি সত্যিই ন্যায়বিচার, নাকি শক্তির মহড়া।








