ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় দাখিল করা চার্জশিট পর্যালোচনার শুনানি আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা চার্জশিট গভীরভাবে পর্যালোচনার জন্য সময় চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করে এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
আদালত সূত্র জানায়, গত সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত রাষ্ট্রপক্ষকে চার্জশিট গভীরভাবে পরীক্ষা করার জন্য দুই দিনের সময় দেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজ আদালতে জানানো হবে, চার্জশিট গ্রহণ করা হবে নাকি এ বিষয়ে নারাজি দাখিল করা হবে।
মামলার বিচারিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তার জন্য আদালত তিনজন আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন। তারা হলেন- জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার, ব্যারিস্টার এস এম মইনুল করিম এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল।
চার্জশিট পর্যালোচনা সংক্রান্ত কার্যক্রমের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী। রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের বিষয়ে বাদীপক্ষ আদালতে সম্মতি জানায়।
শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষে নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবীরা সাংবাদিকদের বলেন, শরিফ ওসমান হাদি সারাজীবন ন্যায়বিচারের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। তার আদর্শ অনুসরণ করেই চার্জশিটের প্রতিটি বিষয় সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে, যাতে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন। তারা জানান, মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ১৭ জনের মধ্যে ৯ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরদিন আদালত চার্জশিট গ্রহণসংক্রান্ত বিষয়ে আপত্তি আছে কি না, তা জানাতে বাদীকে নির্দিষ্ট দিনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি।
প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
১৯ ডিসেম্বর তার মরদেহ দেশে আনা হয় এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তার দাফন সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় শুরুতে হত্যাচেষ্টা মামলা করা হলেও হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।









