চাকচিক্যের জীবন যাপনের কারণে সাধারণ মানুষ ডিসিদের কাছে যেতে পারেন না বলে সাধারণ মানুষের জন্য ডিসি অফিসের দরজা-জানালা খোলা রাখতে বললেন হাইকোর্ট।
আদালত অবমাননা সংক্রান্ত এক মামলায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আদালতে হাজির হলে সোমবার বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনাকে সতর্ক করছি। একজন পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে আপনি জনগণের সেবক। তাই আপনার অফিসের দরজা-জানালাগুলো খোলা রাখবেন সাধারণ মানুষ যাতে ঢুকতে পারে এবং আপনাদের চেহারা দেখতে পারে।’
এসময় হাইকোর্ট আরও বলেন, ‘আপনারা এত চাকচিক্যের জীবন যাপন করেন যে, সাধারণ মানুষ আপনাদের কাছে যেতে পারেনা। তাই সতর্ক করে দিচ্ছি, সাধারণ একজন লুঙ্গি পরা মানুষ কিংবা একজন গরীব মানুষও যেন আপনাদের কাছে যেতে পারে।’
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসককে উদ্দেশ্য করে হাইকোর্ট বলেন, ‘আপনার অফিসে কোন ভারী পর্দা লাগাবেন না। মানুষ যেন হেটে দেখতে পারে যে তাদের ডিসি সাহেব বসে আছেন চেয়ারে।’
এসময় হাইকোর্ট বলেন, ‘মানুষের যেমন হার্ট আছে, তেমনই সরকারের হার্ট হচ্ছেন আপনারা। আপনাদের মাধ্যমেই সরকারের ভাবমূর্তি ও সরকারের পলিসি বাস্তবায়িত হয়। এবিষয়টি মাথায় রেখেই আপনাদের কাজ করা উচিত। আপনারা কলাপস করলে সরকারের ভাবমূর্তি কলাপস করবে।’
একপর্যায়ে হাইকোর্ট এই মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে ডিসিকে অব্যাহতি দিয়ে এবিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ২৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। অবশেষে হাইকোর্ট ডিসিকে বলেন, ‘এখানে আসার জন্য ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।’
আজ আদালতে এই মামলার নিলাম ক্রেতা আব্দুর রশিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী নুরুল আমিন। কুষ্টিয়ার ডিসি ও এসপির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুন্সী মনিরুজ্জামান ও ইউসুফ খান। ব্র্যাক ব্যাংকের এমডির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী ও ব্যবসায়ী শফিকুলের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী।







