নেপালে গণবিক্ষোভে সরকার পতনের পর জেন-জি বলছে, যে উদ্দেশ্যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল তা বিরোধীপক্ষ ও সুবিধাবাদীরা হাইজ্যাক করে নিয়ে গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ‘জেন জি’ বর্তমান পরিস্থিতি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে।
জেন-জি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছে। এ ছাড়া বুধবার তাদের পক্ষ থেকে কোন ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি রাখা হয়নি। এজন্য তারা পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে কারফিউ বাস্তবায়নের দাবি জানায়।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির পদত্যাগের পর পরিস্থিতি শান্ত রাখতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত দেশব্যাপী কারফিউ জারি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।
সতর্ক করে তারা জানিয়েছে, যদি কেউ এখন সহিংসতা এবং ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সেনাবাহিনী আরও জানায়, ৩১টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট ও সহিংসতার ঘটনায় জড়িত ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানী কাঠমান্ডুতে শান্ত পরিবেশ দেখা গেলে পুড়ে যাওয়া ভবন থেকে ধোঁয়া উড়তে এবং রাস্তার পাশে পুড়ে যাওয়া যানবাহনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় নেপালে বিক্ষোভ শুরু হয়। সোমবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ১৯ জন নিহত হয়। পরে মঙ্গলবার এ ঘটনা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং এটি সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। তবে অনেক বিক্ষোভকারী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, এই বিক্ষোভে অনেক অনুপ্রবেশকারী ঢুকে পড়েছে।
শেষ পর্যন্ত তীব্র বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিলে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেন। এমনকি পদত্যাগে বাধ্য হন রাষ্ট্রপতিও। এরপর মন্ত্রীদের বাড়িঘর ভাঙচুর, সরকারি ভবনে আগুন দেওয়া এবং সংসদে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে চলমান অস্থিরতায় ২০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।









