থাইল্যান্ডের ব্যাংককে সাফ উইমেন’স ফুটসালের প্রথম আসরেই চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে গড়ানো আসরে ছয় ম্যাচে পাঁচ জয় ও এক ড্রয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। ইতিহাস গড়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে ফিরেছে সাবিনা খাতুনের দল। দেশে ফিরেই লাল-সবুজের মেয়েরা ছাদখোলা বাসে উদযাপনের পর বাফুফের সংবর্ধনা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার কিছুপর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে জাতীয় নারী দলকে বহনকারী ফ্লাইট। চ্যাম্পিয়নদের বিমানবন্দরে ফুলেল বরণ করে নেয়া হয়। দেশে পৌঁছেই চ্যানেল আইকে অনুভূতি জানান ফুটসাল দলের সদস্য সুমাইয়া মাতসুশিমা। বলেছেন, ‘সাফ ফুটসাল শেষ করে আমরা আজকে দেশে পৌঁছেছি। ফুটসালে বাংলাদেশসহ ৭টা দেশ ছিল এবং আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ। সবাই দোয়া করবেন যেন আমরা ফুটসালকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।’
এরপর ছাদখোলা বাসে চ্যাম্পিয়ন দল আসে হাতিরঝিল এম্পিথিয়েটারে বাফুফে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে । সেখানেই সবাইকে ধন্যবাদ জানান ফুটসাল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। বলেছেন, ‘আপনাদের ব্যস্ততার মাঝেও যখন আমরা ট্রফি আনি, আপনারা সময় দেন। এই ট্রফি আপনাদের উৎসর্গ করছি, দেশের মানুষকে। সকলের পরিশ্রম ও দোয়ায় এ অর্জন।’
নারী ফুটসাল দলের কোচ সাঈদ খোদারাহমি প্রশংসা করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাবিনার। কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন দেশের মানুষের প্রতি। বলেছেন, ‘বাংলাদেশের সকল মানুষকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। এখানে ফুটসালের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের পারফেক্ট খেলোয়াড় সাবিনা। এই দলটি মাত্র পাঁচ মাসে একটি ট্রফি জিতেছে।’
সাবিনার নেতৃত্বে সাফ নারী ফুটবলের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার ফুটসালের শিরোপাও এসেছে তার নেতৃত্বে। অনন্য কীর্তির কারণে সাবিনার নাম যুগ যুগ ধরে অমর থাকবে বলে মনে করেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। বলেছেন, ‘আবারও আমাদের আরেকটা ট্রফি এনে দেয়ার জন্য সবাইকে অভিনন্দন জানাতে চাই। সাবিনাকে অভিনন্দন জানাব, সাফ ফুটবল ও ফুটসালে শিরোপা জেতার জন্য। জানি না ছেলে ও মেয়ে খেলোয়াড়, তার এ রেকর্ড আর কেউ ভাঙতে পারবে কিনা? দুই ফরম্যাটে (সাফ ফুটবল ও ফুটসাল) সাবিনা খাতুনের নেতৃত্বে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। যুগ যুগ ধরে সাবিনার নাম নিতে হবে।’
নারী ফুটসাল দলের ম্যানেজার অবশ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দাবি করেছেন মিনি স্টেডিয়ামের। তার ভাষ্যে, ‘মেয়েদের ফুটসালে আসলে একমাসের পরিশ্রমে শিরোপা এসেছে। এ খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। আশা করব সরকার যেন আমাদের একটা মিনি স্টেডিয়াম দেয়।’
সাত দলের অংশগ্রহণে ব্যাংককে আয়োজিত আসরে ৬ ম্যাচে ৫ জয় ও এক ড্রয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে সাবিনা খাতুনের দল। ভারতকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আসর শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে ৩-৩ ড্র করেছিল। পরের তিন ম্যাচে নেপালকে ৩-০, শ্রীলঙ্কাকে ৬-২, পাকিস্তানকে ৯-১ এবং মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলে হারায় বাংলাদেশ।









