জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ. এইচ. এম সফিকুজ্জামান বলেছেন: আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। মুড়িকাটা পেঁয়াজ ইতোমধ্যে বাজারে আসা শুরু করেছে।
তিনি বলেন: পেঁয়াজ মজুদদারদের আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে ইতোমধ্যে কিছু মজুদদারকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এখনো যারা অচিহ্নিত রয়েছে তাদেরকেও চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে।
‘খাতুনগঞ্জ ও শ্যামবাজারের থরে থরে সাজানো পেঁয়াজ আমাদের অভিযানের পরে কীভাবে উধাও হয়ে গেল, কারা পেঁয়াজ লুকিয়ে রেখেছে- গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে দেশের ৫৪টি জেলায় অভিযান পরিচালনা করে ১১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত কিছুদিন আগে হিমাগার থেকে ৬ লক্ষ ডিম মজুদ অবস্থায় পাওয়া গেছে। মাংস ও আলুর বাজারে অস্থিতিশীলতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
আজ সোমবার ১১ ডিসেম্বর ভোক্তা অধিকার বিষয়ক সচেতনতামূলক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ দলকে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকার কারওয়ান বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ও রানার আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে ইডেন মহিলা কলেজ।
সভাপতির বক্তব্যে ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান জনাব হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্যের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে কালোবাজারী—মজুদদাররা সরকারের চেয়েও পাওয়ারফুল। রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থাও তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। সুযোগ পেলেই বেপরোয়া হয়ে ওঠে। জনগণকে বেকায়দায় ফেলতে চায়। বর্তমানে পেঁয়াজ নিয়ে তেলেসমাতি কান্ড তারই প্রমাণ। তবে আশা করা যাচ্ছে কিছু দিনের মধ্যেই অসৎ পেয়াজ কারবারীদের নিস্ক্রীয় করা যাবে। ভারতে ঋণপত্র খোলা ৫৫ হাজার টন পেঁয়াজ দেশে আনার দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
এছাড়াও টিসিবির কাছে সাড়ে ৩ হাজার টন পেঁয়াজ রয়েছে। অন্যদিকে দেশীয় পেঁয়াজও বাজারে আসা শুরু করেছে। আমি ধারণা করছি এবারও অসৎ মজুদদার পেঁয়াজ কারবারীরা হয়তো গোডাউনে পেয়াজ পঁচাবে অথবা গোপনে পানিতে ফেলে দিবে। তাই আশা করবো যারা বিভিন্ন জায়গায় পেঁয়াজ লুকিয়ে রেখেছে তারা দ্রুত লোকশান এড়াতে চাইলে বাজারে দ্রুত পেঁয়াজ সরবরাহ করবেন।
কিরণ আরও বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের সদিচ্ছা থাকতে হবে। চাকরিজীবি মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্তরা দ্রব্যমূল্যের কষাঘাতে হিমশিম খাচ্ছে। অনেকেই খাদ্য তালিকা থেকে মাছ মাংস খাওয়া বাদ দিয়েছে। মধ্যবিত্তের অবস্থা হয়েছে না পারে সইতে না পারে কইতে। দ্রব্যমূল্যের কষাঘাত থেকে জনগণকে মুক্তি দিতে হবে। তার জন্য দরকার ব্যবসায়ীদের মানসিকতার পরিবর্তন।
তবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিরলস ও ধারাবাহিক কার্যক্রমের জন্য একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। অনিয়ম ও দুনীর্তিমুক্ত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানের সুপারিশ করছি। একই সাথে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যেসব কর্মকর্তারা ২৪ ঘন্টা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে নানা অভিযান পরিচালনা করছেন তাদের জন্য ঝুঁকিভাতাসহ বিশেষ ইনসেন্টিভ প্রদানের সুপারিশ করছি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান ও ফকির মুহাম্মদ মুনাওয়ার হোসেন, উপপরিচালক আতিয়া সুলতানা প্রুমুখ।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ দলকে ট্রফি ও সনদপত্রসহ যথাক্রমে নগদ ২ লক্ষ ও ১ লক্ষ টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয়।








