নির্মাতা হিসেবে আলাদা পরিচিতি আছে কাজল আরেফিন অমির। তার নির্মিত কনটেন্ট যখনই আসে সবচেয়ে কম সময়ে কোটি ভিউসে পৌঁছায়! অমির বানানো ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ছাড়াও আরেকটি জনপ্রিয় ফ্রাঞ্চাইজি হচ্ছে ‘ফিমেল’। এরআগে নাটকটির তিনটি সিকুয়েল দর্শকের কাছে তুমুল জনপ্রিয়তা পায়!
এমনকি ড্যান্স শাহ্ আলম, বডি সোহেল, কুত্তা মিজান, এতিম আকবর, লাবু কমিশনার চরিত্রগুলোও আলাদাভাবে পরিচিতি পেয়েছে। মহল্লার দুই গ্রুপের গ্যাঞ্জাম ও নারী নিয়ে টানাটানির নতুন গল্পে ‘ফিমেল ৪’ আনছেন অমি।
এর আগে ইউটিউবে ‘ফিমেল’ দেখা গেলেও এবার ওটিটি প্লাটফর্মে সাবস্ক্রাইব করে দেখতে হবে। বিষয়টি জানানোর পর অনেকেই বলছেন, কেন ইউটিউবের কনটেন্ট ওটিটি-তে টাকা দিয়ে দেখতে হবে? কেউ কেউ আবার বলছেন, ইউটিউবের জন্য ‘ফিমেল’র নতুন সিয়েয়ালে আনা উচিত ছিল। দর্শকের এমন মন্তব্যের ব্যাখ্যা পরিচালক অমি দিলেন তার মতো করে।
বললেন, ‘ফিমেল’ ওটিটি এলেও টাকা দিয়ে দেখে দর্শক চিৎকার করে বলবে তাদের ভালো লেগেছে। কাজ নিয়ে কখনো ছাড় দেইনি। আমি এখন বুঝতে পারছি কী আছে ‘ফিমেল ৪’-এ। দর্শকরাও দেখার পর বুঝবে।
চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপে ট্যাটু, ভাইরাল গার্ল, আপন, একটি সন্দেহের গল্প, বিদেশ, শেষমেষ-এর দর্শক নন্দিত নাটকের নির্মাতা অমি জানান, তিনি বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে সবসময় পরিপূর্ণ কনটেন্ট বানান। বললেন, প্রথম যখন ‘ফিমেল’ বানাই তখন পরিসর অন্যরকম ছিল। চারদিন শুটিং করেছিলাম অনেকটা জোর করে, কারণ বাজেট ছিল না। প্রথমটা দর্শক পছন্দ করলে ‘ফিমেল ২’ আরেকটু বেটারভাবে বানাই। পাঁচদিন শুটিংয়ের সুযোগ পাই। ‘ফিমেল ৩’ শুটিং করেছিলাম ৬দিন। প্রতিটি সিকুয়াল একটু একটু করে বড় করেছি এবং দর্শক মনভরে ভালোবাসা দিয়েছে। এবার ‘ফিমেল ৪’ নিয়ে আসছি। নিশ্চয়ই আমাকে আগেরগুলোকে টপকে যেতে হবে, আরও বড় করতে এবার ১২দিন শুটিং করেছি।
আরও প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে অমি বললেন, প্রি-প্রোডাকশন থেকে ফটোশুটেও সময় নিয়েছি। টোটাল কাজটি করতে একমাস সময় দিয়েছি। পোস্ট প্রডাকশন করতে প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের সবমিলিয়ে আরও একমাস লাগছে। যিনি প্রযোজক তিনি এতো টাকা ইনভেস্ট করে লাভবান না হন তাহলে পরবর্তীতে কনটেন্ট বানাতে এনার্জি পাবেন না। এ জন্য আমরা ‘ফিমেল ৪’ ওটিটিতে দিচ্ছি এবং নাটককে কতটা বড় করে ওয়েব ফিল্ম বানানো যায় সেটাই ‘ফিমেল ৪’-এ দেখাচ্ছি। আমার বিশ্বাস, যারা ফিমেলের আগের তিনটি সিকুয়াল পছন্দ করেছে তারা এবারও পছন্দ করবে।
”আমাদের কাজগুলো যারা নিয়মিত দেখেন তাদের মধ্য থেকে ১০ পারসেন্ট দর্শক ‘ফিমেল’ দেখেন তবুও ওটিটিতে ‘ফিমেল’ ভালো চলবে। এবং যারা দেখবে তারাই চিৎকার করে মাউথ পাবলিসিটি করবে, সাবস্ক্রাইব করে দেখেন পয়সা উসুল হবে। আসলে কনটেন্টকে বড় করার স্বার্থেই ইউটিউব থেকে ওটিটিতে ট্রান্সফর্ম করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা ব্যক্তিস্বার্থে নয়। আমি চাইলে ‘ফিমেল ৪’ না করে অন্য কনটেন্ট আরামে বানাতে পারতাম। কিন্তু সেটা না করে ফিমেলকেই বেছে নিয়েছি। চেয়েছি মানুষ পছন্দ করে ভাবুক ‘ফিমেল ৫’ বানালে সেটা কত বড় হতে পারে।”
ইউটিউবের কাজ ওটিটিতে বানানো তো বেশ চ্যালেঞ্জিং নাকি? প্রশ্ন শুনে অমি উত্তর দিলেন এভাবে, চ্যালেঞ্জ এমনে তো আসে না। ব্যাকআপ থাকা লাগে। আর আমার সবচেয়ে বড় ব্যাকআপ হচ্ছে আমার দর্শকরা। তারা আমাকে ব্যাকআপ বা সাপোর্ট না দিলে আমার আত্মবিশ্বাস বা সাহস আসতো না। এ কারণে আমি দর্শকদের কাছে গ্রেটফুল। এ কাজের প্রযোজকদের কাছেও কৃতজ্ঞতা। তারাও আমাকে যথেষ্ট সাপোর্ট করেছেন।
কোরবানি ঈদে মুক্তি পাবে ‘ফিমেল ৪’। আগের শিল্পীরাই এতে অভিনয় করেছে। নতুন করে কাস্টিংয়ে চমক রাখার ইঙ্গিতও দিয়েছেন অমি।









