টানা দুই ম্যাচ হারের পর অবশেষে এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা শ্রীলঙ্কাকে ৫ উইকেটে হারিয়ে পয়েন্টের খাতা খুলেছে। ১০ দলের আসরে টেবিলের তলানি থেকে উঠে এখন আট নম্বরে অবস্থান করছে প্যাট কামিন্সের দল।
তিন ম্যাচে এক জয়ে দুই পয়েন্ট নিয়ে আটে অস্ট্রেলিয়া। ক্যাঙ্গারুরা বড় জয় পেলেও রানরেটে তারা সাত নম্বরে থাকা বাংলাদেশকে টপকাতে পারেনি। এখনো জয়ের দেখা না পাওয়া শ্রীলঙ্কা নবম স্থানে আছে। টেবিলে সবার নিচে এখন নেদারল্যান্ডস।
তিন ম্যাচে ৬ পয়েন্ট পাওয়া ভারত ও নিউজিল্যান্ড রানরেটের হিসাবে যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট পাওয়া সাউথ আফ্রিকা তিনে রয়েছে। এক ম্যাচ বেশি খেলা পাকিস্তান ৪ পয়েন্টে থাকলেও রানরেটে পিছিয়ে থাকায় চারে অবস্থান করছে।
আগে ব্যাট করা শ্রীলঙ্কা ৪৩.৩ ওভারে কেবল ২০৯ রানে অলআউট হয়। জবাবে অস্ট্রেলিয়া ১৪.৪ ওভার ও ৫ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
২১০ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতে ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। দলীয় ২৪ রানের মাথায় হারায় দুই উইকেট। দিলশান মাদুশাঙ্কার বলে বোল্ড হন ৬ বলে এক ছক্কায় ১১ রান করা ডেভিড ওয়ার্নার। রানের খাতা না খুলেই মাদুশাঙ্কার বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন স্টিভেন স্মিথ।
তৃতীয় উইকেটে মার্নাস লাবুশেনকে নিয়ে ৫৭ রান যোগ করে শুরুর ধাক্কা সামলান ওপেনার মিচেল মার্শ। অজিদের জয়ের রাস্তা তাতে অনেকটা সহজ হয়ে যায়।
ফিফটি পাওয়ার পরই মার্শ রান আউট হন। চামিকা করুণারত্নে দারুণ থ্রোতে বল গ্লাভসে নিয়েই স্টাম্প ভাঙেন উইকেটরক্ষক কুশল মেন্ডিস। ক্যাঙ্গারুদের ওপেনার ৫১ বলে ৯ চারে ৫২ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন।
জশ ইংলিশ ও লাবুশেন চতুর্থ উইকেটে ৭৭ রানের জুটি গড়েন। লাবুশেন ৬০ বলে ৪০ রান করে মাদুশাঙ্কার তৃতীয় শিকার হন।
ক্রিজে এসেই ঝড় তোলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। দ্রুত রান তুলে দলের রানরেট বাড়িয়ে নেয়ার কাজটা ঠিকঠাকই করেছেন অজি অলরাউন্ডার।
জয়ের বেশ কাছে গিয়ে আউট হন অর্ধশতক হাঁকানো ইংলিশ। ৫৯ বলে ৫ চার ও এক ছক্কায় ৫৮ রান করে দুনিথ ওয়েল্লাগের বলে মাহেশ থিকশানার তালুবন্দি হন।
মার্কাস স্টয়নিসকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন ২১ বলে ৪টি চার ও ২ ছক্কায় ৩১ রান করা ম্যাক্সওয়েল। ক্যামিও ইনিংস খেলা স্টয়নিস ১০ বলে ২ চার ও এক ছক্কায় ২০ রানে অপরাজিত থাকেন।
পেসার মাদুশাঙ্কা লঙ্কানদের হয়ে নেন ৩ উইকেট। একটি উইকেট পান ওয়েল্লাগে।
এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত শুরু করেছিলেন শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা ও কুশল পেরেরা। প্রথমে নিশাঙ্কা এবং পরে কুশল পেরেরার বিদায়ে মুখ থুবড়ে পড়ে লঙ্কান ইনিংস। বড় সম্ভাবনা জাগিয়ে ৪৩.৩ ওভারে কেবল ২০৯ রান পর্যন্ত যেতে পারে শ্রীলঙ্কা।
লক্ষ্ণৌর ভারত রত্ন শ্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী একানা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বিশ্বকাপে প্রথমবার নেতৃত্ব পাওয়া কুশল মেন্ডিস। নতুন অধিনায়কের সিদ্ধান্তের মূল্য দিয়ে দুই ওপেনার নিশাঙ্কা ও পেরেরা গড়েন ১২৫ রানের জুটি।
২২তম ওভারে প্রথম আঘাত হানতে পারেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। ৬৭ বল খেলে ৬১ রানে আউট হন ডানহাতি নিশাঙ্কা। তার আউটের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি কুশল পেরেরাও। ২৭তম ওভারে কামিন্সের দ্বিতীয় শিকার হন এ বাঁহাতি। ৮২ বল খেলে করে যান ৭৮ রান।
এরপর গত ম্যাচের দুই সেঞ্চুরিয়ান কুশল মেন্ডিস ও সাদিরা সামারাবিক্রমাকে দ্রুত আউট করেন লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা। পরে চারিথ আসালাঙ্কা ছাড়া আর কোনো ব্যাটার দুইঅঙ্ক ছুঁতে পারেননি। ৩৯ বল খেলে শেষ ব্যাটার হিসেবে ২৫ রানে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের শিকার হন বাঁহাতি আসালাঙ্কা।
ম্যাচ সেরা হওয়া স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা নিয়েছেন ৪ উইকেট। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন পেসার মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্স। ম্যাক্সওয়েলের শিকার এক উইকেট।







