অস্ট্রেলিয়াকে খুব একটা বড় লক্ষ্য দিতে পারেনি সাউথ আফ্রিকা। ডেভিড মিলারের মিলারের সেঞ্চুরিতে ২১২ রানের সংগ্রহ গড়েছিল তারা। বল হাতে অবশ্য লড়াই করেছে প্রোটিয়ারা। স্বল্প পুঁজি নিয়েও অজিদের অনেকটা চেপেই ধরেছিল শামসি ও কোয়েটজিরা। তবে ট্রাভিস হেডের ফিফটি ও শেষের দিকে মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্সের লড়াকু ইনিংসে ৩ উইকেটে জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। প্রোটিয়া-অজিদের লড়াইয়ে উত্তেজনার শেষে শিরোপার মঞ্চে ভারতের সামনে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
রোববার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে টসে জিতে আগে ব্যাটের সিদ্ধান্ত নেন প্রোটিয়া অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। ব্যাটে নেমে ইনিংসের দুই বল বাকি থাকতে ২১২ রানে গুটিয়ে যায় তার দল। জবাবে নেমে ৭ উইকেট হারিয়ে ৪৭.২ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় প্যাট কামিন্সের দল।
আসরের প্রথম সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৭০ রানে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত। রোববার শিরোপার লড়াইয়ে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ সময় দুপুর আড়াইটায় আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে গড়াবে ফাইনাল মহারণ।
প্রোটিয়াদের সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে দারুণ শুরু করেন দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড ও ডেভিড ওয়ার্নার। উদ্বোধনী জুটিতে তোলেন ৬০ রান। সপ্তম ওভারের প্রথম বলে ওয়ার্নার আউট হলে জুটি ভাঙে। ১৮ বলে ২৯ রান করে মার্করামের শিকার হয়ে ফেরেন অজি ওপেনার। পরের ওভারেই দ্বিতীয় ব্যাটারকে হারায় প্যাট কামিন্সের দল। রানের খাতা খোলার আগেই রাবাদার শিকার হয়ে ফিরে যান মিচেল মার্শ।
এরপর স্টিভেন স্মিথকে নিয়ে ৪৫ রানের জুটি গড়ে ফিরে যান ট্রাভিস হেড। ১৫তম ওভারের প্রথম বলে দলীয় ১০৬ রানে কেশব মহারাজের শিকার হন তিনি। নয়টি চার ও দুটি ছক্কায় ৪৮ বলে ৬২ রান করেন এই ওপেনার।
২১.৫ ওভারে দলীয় ১৩৩ রানে মার্নাস লাবুশেননের উইকেট হারায় অজিরা। ৩১ বলে ১৮ রান করেন তিনি। একওভার পরেই ফিরে যান আফগানিস্তানের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি করা গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ৫ বলে ১ রান করেন।
৩৩.৩ ওভারে দলীয় ১৭৪ রানে ষষ্ঠ ব্যাটারকে হারায় অস্ট্রেলিয়া। স্টিভেন স্মিথকে ফেরান জেরাল্ড কোয়েটজি। ৬২ বলে ৩০ রান করেন স্মিথ। ৪০তম ওভারের পঞ্চম বলে জশ ইংলিশকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান কোয়েটজি।
১৯৩ রানে ৭ ব্যাটারকে আউট করার পর অজিদের চেপে ধরে প্রোটিয়ারা। তবে মিচেল স্টার্ক ও অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের লড়াকু ইনিংসে ফাইনালের মঞ্চ নিশ্চিত হয় অস্ট্রেলিয়ার।
প্রোটিয়াদের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন তাবরাইজ শামসি ও জেরাল্ড কোয়েটজি। এছাড়া কাগিসো রাবাদা, এইডেন মার্করাম ও কেশব মহারাজ নেন একটি করে উইকেট।
এর আগে ব্যাটে নেমে ইডেনের পিচ যেন পড়তে পারেননি প্রোটিয়ারা, টস জিতে ব্যাটিং বেছে নিয়ে পড়ে যান চাপে। গ্রুপপর্বে দাপট দেখানো সাউথ আফ্রিকা নিস্তেজ শুরু করে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের তোপে শুরুতেই চাপে পড়ে সাউথ আফ্রিকা। মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজেলউডের জোড়া শিকারে ২৪ রানে ৪ টপঅর্ডার ব্যাটারকে হারায়। ব্যর্থ হয়েছেন অধিনায়ক বাভুমা (০) নিজে। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কুইন্টন ডি কক (৩), এইডেন মার্করাম (১০) ও রসি ফন ডার ডুসেন (৬) জ্বলে উঠতে পারেননি।
১১.৫ ওভারে দলীয় ২৪ রানে ৪ ব্যাটার হারিয়ে চাপে পড়া প্রোটিয়াদের হাল ধরেন হেইনরিখ ক্লাসেন ও ডেভিড মিলার। খেলা ১৫ ওভার গড়ানোর আগেই হানা দিয়েছিল বেরসিক বৃষ্টি। ইনিংসের ১৪তম ওভার শেষ হওয়ার পর বৃষ্টি নামে। বৃষ্টি আগে সাউথ আফ্রিকার সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেট হারিয়ে ৪৪ রান। ক্লাসেন ৮ বলে ১০ রানে ও মিলার ৭ বলে ১০ রানে অপরাজিত ছিলেন।
৩৮ মিনিট পর ফের খেলা গড়ায়। বৃষ্টিতে সময় বেশি নষ্ট না হওয়ায় ওভার কাটা যায়নি। ফিরে জুটিতে ৯৫ রান তোলেন ক্লাসেন-মিলার। ৩১তম ওভারে ক্লাসেনকে ফেরান ট্রাভিস হেড। চারটি চার ও দুটি ছক্কায় ৪৮ বলে ৪৭ রান করেন তিনি।
ক্লাসেন আউট হওয়ার পরের বলেই গোল্ডেন ডাক মেরে ফিরে যান মার্কো জানসেন। পরে জেরাল্ড কোয়েটজিকে নিয়ে ৫১ রানের জুটি গড়েন মিলার। ৪৪তম ওভারে প্যাট কামিন্স ৩৯ বলে ১৯ রান কর কোয়েটজিকে ফেরান। ৪৭তম ওভারের দ্বিতীয় বলে দলীয় ১৯১ রানে কেশব মহারাজকে নিজের তৃতীয় শিকার বানান স্টার্ক। ৮ বলে চার রান করেন মহারাজ।
৪৮তম ওভারে বল করতে এসেছিলেন প্যাট কামিন্স। শর্ট লেন্থের একটি ডেলিভারি পুল শটে মিডউইকেট অঞ্চলের উপর দিয়ে গ্যালারিতে পাঠিয়ে দেন মিলার। ৯৪ মিটার লম্বা ছক্কার সুবাদে পৌঁছে যান সেঞ্চুরিতে। আটটি চার ও পাঁচটি ছক্কায় ১১৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মিলার। পরের ডেলিভারিতে ওয়াইড দিয়ে বসেন কামিন্স। ওভারের দ্বিতীয় বলে স্কয়ার লেগ অঞ্চলের উপর দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ট্রাভিস হেডের হাতে ধরা পড়েন মিলার। সেঞ্চুরির পর আর কোনো রান যোগ করতে পারেননি, থামেন ১০১ রানে।
৪৯.৪ ওভারে রাবাদাকে ফিরিয়ে প্রোটিয়াদের ইনিংস গুটিয়ে দেন কামিন্স। ১২ বলে ১০ রান করেন রাবাদা। ৫ বলে ১ রানে অপরাজিত থাকেন তাবরাইজ শামসি।
অজিদের হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্স। জশ হ্যাজেলউড ও ট্রাভিস হেড নেন দুটি করে উইকেট।








