আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম টাইমড-আউট ব্যাটার এখন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। বাংলাদেশের বিপক্ষে হেলমেটের ফিতার একপাশ ছিঁড়ে ড্রেসিংরুমের দিকে নতুন হেলমেটের ইঙ্গিত করে সময় সংকটে পড়েন শ্রীলঙ্কান তারকা। টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান টাইমড-আউটের আবেদন জানান মাঠ আম্পায়ারের কাছে। আম্পায়ার নিয়ম মেনে ম্যাথুজকে আউট ঘোষণা করেন। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম টাইমড-আউট হলেও ঘটনাটি নতুন নয়, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৬ বার এমন আউটের ঘটনা আছে।
ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে টাইমড-আউট হন সাউথ আফ্রিকার অ্যান্ড্রু জর্ডান। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে পোর্ট এলিজাবেথে ইস্টার্ন প্রভিন্সের হয়ে তিনি ট্রান্সভালের বিপক্ষে অপরাজিত থেকে দিনের খেলা শেষ করেছিলেন। পরদিন বন্যায় রাস্তা প্লাবিত হওয়ায় জর্ডানকে মাঠে যেতে বাধা দেয়া হয়েছিল। পরে ক্রিকেটের আইন মেনে তাকে টাইমড-আউট ঘোষণা করা হয়।
ভারতীয় ক্রিকেটার হেমুলাল যাদব ত্রিপুরার হয়ে খেলার সময় টাইমড-আউট হন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে উড়িষ্যার বিপক্ষে ব্যাট করতে নামার আগে বাউন্ডারিতে টিম ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলছিলেন। ক্রিজে পৌঁছানোর চেষ্টা না করায় হেমুলালকে আউট ঘোষণা করা হয়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ১২ টেস্ট ও ৩৪ ওয়ানডে খেলা ভ্যাসবার্ট ড্রেকস বর্ডার দলের প্রতিনিধিত্ব করার সময় এই আউট হন। ২০০২ সালে ইস্ট লন্ডনের সঙ্গে ম্যাচ খেলার জন্য নির্ধারিত সময়ে তার ক্রিজে না যাওয়ার কারণ বেশ চমক জাগায়। যখন তার ব্যাট করতে নামার কথা, তখন ক্যারিবিয়ান সাবেক উড়োজাহাজে করে ম্যাচটি খেলতে যাচ্ছিলেন!
ইংলিশ ক্রিকেটার অ্যান্ড্রু জেমস হ্যারিসকে অবশ্য টাইমড-আউট হওয়ার জন্য দুর্ভাগা বলাই যায়। কুঁচকির চোটে পড়ায় ২০০৩ সালে নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে ব্যাট করতে নামার সময় হাঁটতে তার বেশ কষ্ট হচ্ছিল। নির্ধারিত সময়ের ভেতর ক্রিজে যেতে না পারায় প্রতিপক্ষ ডারহামের আবেদনে হ্যারিসকে আউট দেয়া হয়।
২০১৩-১৪ মৌসুমে কম্বাইন্ড ক্যাম্পাস অ্যান্ড কলেজের হয়ে খেলার সময় টাইমড-আউট হন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে দুই টেস্ট খেলা রায়ান অ্যান্থনি অস্টিন। শেষ ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৌঁছাতে না পারায় উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডসের বিপক্ষে কোনো বল না খেলেই সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে।
জিম্বাবুয়ের চার্লস কুঞ্জে ২০১৭-১৮ মৌসুমে মাতাবেলেল্যান্ড টাস্কার্সের হয়ে খেলার সময় টাইমড-আউট হন। মাউন্টেনার্সের বিপক্ষে কেন তিনি এভাবে আউট হয়েছিলেন, সেই কারণটি এখনো অজ্ঞাত!
এমসিসির ক্রিকেট আইনের ৪০.১.১ ধারা অনুযায়ী ‘টাইমড-আউট’র ব্যাপারে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাটার আউট হওয়ার পর নতুন ব্যাটার ক্রিজে এসে যদি ৩ মিনিটের মধ্যে কোনো বল মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত না হন, তবে তিনি টাইমড-আউট হবেন। সেই নিয়মে ম্যাথুজকে সাজঘরে ফিরে যেতে হয় কোনো বল না খেলেই।
তবে আইসিসির বিশ্বকাপ নীতিমালায় বলা হয়েছে, টাইমড-আউটের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে নতুন ব্যাটার মাঠে আসার ২ মিনিটের মধ্যে। আম্পায়াররা যখন ম্যাথুজকে আউটের সিদ্ধান্ত দেন, ততক্ষণে বয়ে যায় প্রায় ৫ মিনিট। যার মধ্যে আম্পায়াররা লঙ্কান তারকাকে আউট দিতে প্রায় এক মিনিট সময় ব্যবহার করেছেন।







