লিগপর্ব শেষে এবার বিশ্বকাপে সেমির লড়াইয়ের পালা। দশ দলের আসরে সেরা চারে মুখোমুখি স্বাগতিক ভারত ও নিউজিল্যান্ড, সাউথ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া। শেষ ধাপের মহারণের আগে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে টুর্নামেন্টসেরা দল বাছাই করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বিস্ময়করভাবে আসরে একমাত্র অপরাজিত দল ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে একাদশেই রাখেনি তারা। টিম ইন্ডিয়ার সাবেক অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে আবার দেয়া হয়েছে নেতৃত্ব।
টিম অব দ্য টুর্নামেন্টে ভারতীয় ক্রিকেটাররাই অবধারিতভাবে বেশি স্থান পেয়েছেন। মাঠে আধিপত্য বিস্তার করে স্বাগতিকদের চারজন পেয়েছেন জায়গা। অস্ট্রেলিয়া ও সাউথ আফ্রিকার তিনজন করে, নিউজিল্যান্ডের একজন ঠাঁই পেয়েছেন। সেমিতে যাওয়া দলগুলোর বাইরে কোনো ক্রিকেটারের নাম একাদশে রাখা হয়নি, তবে দ্বাদশ খেলোয়াড় হয়েছেন শ্রীলঙ্কার একজন।
২০২৩ বিশ্বকাপের টিম অব দ্য টুর্নামেন্ট
কুইন্টন ডি কক: সাউথ আফ্রিকার উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ৯ ম্যাচে ৬৫.৬৭ গড়ে করেছেন ৫৯১ রান। ৪টি সেঞ্চুরি হাঁকানো তারকার স্ট্রাইকরেট ১০৯.২০। বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছেন সর্বোচ্চ ১৭৪ রানের ইনিংসটি।
ডেভিড ওয়ার্নার (অস্ট্রেলিয়া): উদ্বোধনী ব্যাটার ৯ ম্যাচে ৫৫.৪৪ গড়ে ১০৫.৫০ স্ট্রাইকরেটে ৪৯৯ রান করেছেন। অভিজ্ঞ অজিম্যান দুই সেঞ্চুরি ও দুই হাফ-সেঞ্চুরি পেয়েছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেন সর্বোচ্চ ১৬৩ রানের ইনিংসটি।
রাচীন রবীন্দ্র (নিউজিল্যান্ড): কিউই তারকা ৭০.৬৩ স্ট্রাইকরেটে ৯ ম্যাচে ৫৬৫ রান করেছেন। লিগপর্বে পেয়েছেন ৩ সেঞ্চুরি ও দুই হাফ-সেঞ্চুরি। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন সর্বোচ্চ ১২৩ রানের অপরাজিত ইনিংস। বল হাতেও ছিলেন কার্যকরী। ৫.৬৮ ইকোনমি রেটে তুলেছেন ৫ উইকেট।
বিরাট কোহলি (ভারত): ব্যাটে মন্ত্রমুগ্ধ করা কিং কোহলি ইতিমধ্যে ৯৯ গড়ে ৮৮.৫০ স্ট্রাইকরেটে আসর সর্বাধিক ৫৯৪ রান করেছেন। নামের পাশে রয়েছে দুটি সেঞ্চুরি এবং ৫টি হাফ-সেঞ্চুরি। যার মধ্যে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১০৩ রানের অপরাজিত ইনিংসটি আছে। ছুঁয়ে ফেলেছেন আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের সর্বোচ্চ ৪৯ সেঞ্চুরির রেকর্ড।
এইডেন মার্করাম (সাউথ আফ্রিকা): নিয়মিত অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার অনুপস্থিতিতে কিছু ম্যাচে প্রোটিয়াদের নেতৃত্ব দিয়েছেন মার্করাম। ৪৯.৫০ গড়ে ১১৪.৫০ স্ট্রাইকরেটে ৩৯৬ রান করেছেন। নামের পাশে একটি সেঞ্চুরি এবং তিনটি হাফ-সেঞ্চুরি। মাত্র ৪৯ বলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে সর্বোচ্চ ১০৬ রানের ইনিংস খেলেছেন। সেসময় ইনিংসটি ছিল ওয়ানডে বিশ্বকাপের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। পরে অবশ্য সেটি ভেঙে দেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।
গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (অস্ট্রেলিয়া): ৭ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে জায়গা পাকা করেছেন। ১৫২.৭০ স্ট্রাইকরেটে এক সেঞ্চুরি ও এক ডাবল সেঞ্চুরিসহ করেছেন ৩৯৭ রান। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৪০ বলে সেঞ্চুরি তুলে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম শতকের মালিক হয়েছেন। আফগানিস্তানের সঙ্গে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া দলকে টেনে নিয়ে হাঁকান ডাবল সেঞ্চুরি। ২০১ রানে অপরাজিত থেকে জয়ের বন্দরে পৌঁছান। বল হাতে ৪.৯৫ ইকোনমি রেটে তুলেছেন ৫ উইকেট।
মার্কো জানসেন (সাউথ আফ্রিকা): ৮ ম্যাচে ১১১.৩ স্ট্রাইকরেটে ১৫৭ রান করেছেন প্রোটিয়া অলরাউন্ডার। টুর্নামেন্টে পেয়েছেন একটি ফিফটি। বল হাতে ৬.৪০ ইকোনমি রেটে শিকার করেছেন ১৭ উইকেট।
রবীন্দ্র জাদেজা (ভারত): টিম ইন্ডিয়ার অলরাউন্ডার ৯ ম্যাচে ১১৫.৬০ স্ট্রাইকরেটে ১১১ রান করেছেন। বল হাতে মাত্র ৩.৯৬ ইকোনমি রেটে ১৬ উইকেট নিয়েছেন।
মোহাম্মদ শামি (ভারত): হার্দিক পান্ডিয়া চোটে পড়ায় খেলার সুযোগ পেয়ে বাজিমাত করেছেন শামি। ৫ ম্যাচে তারকা পেসার ৪.৭৮ ইকোনমি রেটে নিয়েছেন ১৬ উইকেট৷ দুবার ম্যাচে ৫ উইকেট পেয়েছেন।
অ্যাডাম জাম্পা (অস্ট্রেলিয়া): অজি লেগ স্পিনার ৯ ম্যাচে ২২ উইকেট নিয়ে আসরে আগুন ঝরিয়েছেন। সর্বাধিক উইকেট শিকারি বোলারদের শীর্ষে থাকা জাম্পার ইকোনমি রেট ৫.২৭।
জাসপ্রিত বুমরাহ (ভারত): ভারতের পেসার টুর্নামেন্টে পেয়েছেন ১৭ উইকেট। ইকোনমি রেট মাত্র ৩.৬৫।
দিলশান মাদুশঙ্কা (শ্রীলঙ্কা, দ্বাদশ খেলোয়াড়): ৯ ম্যাচে লঙ্কান পেসার ৬.৭০ ইকোনমি রেটে খরুচে হলেও তুলেছেন দ্বিতীয় সর্বাধিক ২১ উইকেট। দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে পেয়েছেন জায়গা।







