জার্মানির নুরেমবার্গ চিড়িয়াখানায় জায়গা স্বল্পতার কারণে ১২ টি সুস্থ গিনি বেবুনকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় চিড়িয়াখানার দর্শণার্থী ও প্রাণী অধিকার কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
ডিডব্লিউ নিউজের তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) জায়গা স্বল্পতা এবং প্রাণীদের পুনর্বাসনের ব্যর্থ প্রচেষ্টার কারণে ১২ জন সুস্থ গিনি বেবুনকে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করার পর, দক্ষিণ জার্মানির নুরেমবার্গ চিড়িয়াখানা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রাণীদের অন্য স্থানে স্থানান্তরের একাধিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে গর্ভনিরোধক ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ায় তাদের কাছে “অন্য কোনও বিকল্প” ছিল না। বেবুনদের সংখ্যা ২৫টির জায়গায় ৪০টিতে উন্নীত হওয়ায় চিড়িয়াখানার ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে বলেও জানান তারা।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারীতে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ আসন্ন সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্ক করে বলেছিল, বেবুনদের অতিরিক্ত সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ঘন ঘন সংঘাত এবং প্রাণীদের মধ্যে আগ্রাসন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে প্রাণীরা আহত হচ্ছে এবং তাদের বংশগত গতিশীলতা ব্যাহত হচ্ছে।
বেবুন হত্যা কার্যক্রমের কারণে মঙ্গলবার চিড়িয়াখানা দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ ছিল। এতে প্রাণী অধিকার কর্মী এবং জনসাধারণ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা এই কাজটিকে অপ্রয়োজনীয় এবং অমানবিক বলে অভিহিত করেন।
প্রাণী অধিকার কর্মীরা এই কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করেন এবং তারা চিড়িয়াখানার ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়ে বলেন, ‘সমস্যাটি তাদের নিজস্ব সৃষ্ট।’
প্রো ওয়াইল্ডলাইফ গ্রুপ ডিডব্লিউকে জানিয়েছেন, “আমরা যা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলাম, তা ঘটেছে। চিড়িয়াখানাটি কয়েক দশক ধরে দায়িত্ব জ্ঞানহীন এবং অস্থিতিশীল প্রজনন নীতি বজায় রাখার কারণে সুস্থ প্রাণীদের হত্যা করতে হয়েছে।”
আমাদের মতে, এই হত্যাকাণ্ড অবৈধ এবং এড়ানো সম্ভব ছিল বলেও জানান তারা।
প্রো ওয়াইল্ডলাইফ হল প্রাণী সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের জন্য চিড়িয়াখানার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরকারী বেশ কয়েকটি দলের মধ্যে একটি।
চিড়িয়াখানার পরিচালক ড্যাগ এনকে বলেছেন, “বছরের পর বছর বিবেচনা করার পরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” প্রাণী হত্যা “জনসংখ্যা সংরক্ষণের জন্য একটি বৈধ শেষ উপায়” হতে পারে বলে জানান তিনি।
এনকে আরও বলেন, এই পদক্ষেপটি ইউরোপীয় চিড়িয়াখানা এবং অ্যাকোয়ারিয়া অ্যাসোসিয়েশন (ইএজেডএ) দ্বারা নির্ধারিত মানদণ্ডের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
প্রাণী অধিকার গোষ্ঠীগুলি সুস্থ সবল বেবুন হত্যার জন্য চিড়িয়াখানার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে নুরেমবার্গ চিড়িয়াখানা ভবিষ্যতে একই ধরণের পরিস্থিতি রোধ করার জন্য এখনও কোনও দীর্ঘমেয়াদী সমাধান ঘোষণা করেনি বলেও জানা গেছে।








