নানা নাটক আর অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আবারও মাঠে গড়াল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। ফিরে দর্শকদের উপহার দিল দারুণ রোমাঞ্চ। যেখানে শেষ হাসি চট্টগ্রাম রয়্যালসের। অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসানের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে জয় তুলে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের আসর থেকে বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে বন্দরনগরীর দলটি।
৮ ম্যাচে ১২ পয়েন্টে শীর্ষে চট্টগ্রাম, সমান ম্যাচ-পয়েন্ট নিয়ে রানরেটে পিছিয়ে দুইয়ে রাজশাহী। ৯ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট তুলে বিদায় নিলো নোয়াখালী, এক ম্যাচ বাকি তাদের।
শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে একদিন বিরতি দিয়ে বিপিএল ফেরার দিনে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক শেখ মেহেদী। আগে ব্যাটে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১২৬ রানে থামে নোয়াখালী। জবাবে ১৭ ওভারে ৫ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে নোঙর করে চট্টগ্রাম।
লক্ষ্যে নেমে শুরু থেকে চাপে পড়ে চট্টগ্রাম। হাসান মাহমুদের বলে শূন্য রানে ফেরেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। এরপর ইহসানউল্লাহ ফেরান মোহাম্মদ হারিস ও মাহফিজুল ইসলামকে। নাঈম শেখ ১৮ রান করে আউট হলে ২৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় দলটি।
কঠিন মুহূর্তে হাসান নওয়াজকে নিয়ে হাল ধরেন শেখ মেহেদী। ৪০ রানের জুটিতে চাপ কিছুটা কাটান। আফগান স্পিনার জহির খান জুটি ভাঙলেও পরে আসিফ আলীকে নিয়ে এগোতে থাকেন শেখ মেহেদী। শেষপর্যন্ত অপরাজিত ৫৯ রানের জুটিতে জয়ের বন্দরে পৌঁছান তারা। আসিফ আলী ৩০ বলে দুটি চার ও দুটি ছক্কায় করেন অপরাজিত ৩৬ রান।
অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চট্টগ্রামকে জয়ের পথে টেনে আনেন শেখ মেহেদী, করেন ৩৬ বলে অপরাজিত ৪৯ রান। সঙ্গে নতুন দল নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপিএল অভিযানেও পড়ে যায় ইতি, তাদের আর প্লে-অফে যাওয়ার কোন পথ থাকল না।
আগে শুরুটা খারাপ না হলেও বড় জুটির অভাবে ভুগেছে নোয়াখালী। ক্রিজ আঁকড়ে ধরার মতো ইনিংস উপহার দিতে পারেননি হাসান ঈসাখিল, সৌম্য সরকার বা জাকের আলী। ঈসাখিল ২০ বলে ২৫, সৌম্য ৮ বলে ১৪, আর জাকের ২২ বলে ২৩ রানে আউট হন।
মিডল অর্ডারে ব্যর্থতার পরিচয় দেন হায়দার আলী, হাবিবুর রহমান সোহান ও মুনিম শাহরিয়ার। হায়দার ১১ বলে ১২, সোহান ১৫ বলে ১১, মুনিম ১ বলে ১ রান করে আউট হন। তাদের দ্রুত বিদায়ে রানের গতি মন্থর হয়ে যায় নোয়াখালীর। শেষদিকে ১৯ বলে সাব্বির হোসেনের ২২ রানের ইনিংসে কোনরকম লড়াইয়ের পুঁজি তুলে নেয় দলটি।
চট্টগ্রামের হয়ে শরিফুল আলো ছড়িয়েছেন, ৯ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন। বল হাতে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন শেখ মেহেদী হাসান। ৩ ওভারে ১২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া ৩৬ রান খরচায় ১ উইকেট নিয়েছেন আমের জামাল।









