নিয়ম-নীতির বাইরে বিএসএফকে কোনো ছাড় দিবে না বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। বিএসএফ তাদের প্রহরা বা নিরাপত্তার ব্যবস্থা অনেক বাড়িয়েছে এবং বাংলাদেশের অনেক কিছু খেয়াল করছে বলেও জানান তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজিবি সদর দপ্তরের কনফারেন্স হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ৫ তারিখের পর সার্বিকভাবে দেখতে পাচ্ছি বিএসএফ তাদের প্রহরা বা নিরাপত্তার ব্যবস্থা অনেক বাড়িয়েছে। আমাদের এদিকে অনেক কিছু খেয়াল করার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে খুঁজে বের করেছি আমাদের দেশের অপরাধী চক্র; কিছু তথ্য পাচার করছে বিএসএফের কাছে। আমরা এনটিএমসি সহায়তায় এসব অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের হাতে সোপর্দ করার কাজ চলছে।
প্রবল ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর কি সীমান্তে ভারতের মনোভাব বদলেছে? এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ডিজি আশরাফুজ্জামান বলেন: যেসব মাইনোরটি আছে, তারা চলে যেতে পারে- প্রথম থেকে এ ধরনের একটি অপপ্রচার ছিল। তখন আমরা দেখতে পেয়েছি- বিএসএফ তাদের ক্যাম্পগুলোতে জনবল বাড়িয়েছে, তারা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেখানে ভারতীয় সেনাবাহিনী আসার কথা নয়, দূরে থাকার কথা- সেসব জায়গায় সেনাবাহিনীর মুভমেন্ট আমরা প্রত্যক্ষ করেছি ওই সময়গুলোতে।
এসব বিষয়ে লিখিত ও মৌখিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন: তারা আমাদের জানিয়েছে, এ তথ্য সঠিক নয়। তবে পরবর্তীতে ডিজি পর্যায়ে যে মিটিং হবে, বিষয়টি আবারো তোলা হবে। সার্বিকভাবে দেখতে পাচ্ছি তারা তাদের প্রহরা বা নিরাপত্তার ব্যবস্থা অনেক বাড়িয়েছে। আমাদের এদিকে অনেক কিছু খেয়াল করার চেষ্টা করছে।
গণগ্রেপ্তারে অংশ নেয়নি বিজিবি
মহাপরিচালক বলেন, জুলাই মাসের শেষের দিকে যখন গণগ্রেপ্তার কার্যক্রম শুরু হলো তখন নির্দেশনা ছিল গ্রেপ্তার কার্যক্রমে অংশ নিতে। কিন্তু বিজিবি একদিনের জন্যও কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। আমি বলেছি, গ্রেপ্তার কার্যক্রমের জন্য বিজিবি প্রশিক্ষিত ও প্রস্তুত নয়।
র্যাবের মতো হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে বলা হয়েছিল বিজিবিকেও
বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, র্যাবের মতোই বিজিবিকেও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে বলা হয়েছিল। আন্দোলনের মধ্যে বিজিবির হেলিকপ্টার একদিনের জন্যও ব্যবহার করা হয়নি। সার্বিক পরিস্থিতির কারণে এসব বলার বা পরিষ্কার করা সুযোগ তখন হয়নি। আমরা তখন কীভাবে দায়িত্ব পালন করেছি, কী রকম প্রেশার ছিল তা আমাদের কমান্ডাররা জানেন।
চাপের মুখে ৫ আগস্ট ঢাকার ১৪ এন্ট্রি পয়েন্টে বিজিবি মোতায়েন
বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ৫ আগস্টে বিজিবিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ঢাকার ১৪টি এন্ট্রি ( প্রবেশপথ) পয়েন্টে নিরাপত্তায় নিয়োজিত হতে নির্দেশ দেওয়া হয়। যাতে করে বাইরে থেকে ছাত্র-জনতা ঢাকায় প্রবেশ করতে না পারে। কারণ সেদিন গণভবন ঘেরাও কর্মসূচি ছিল। আদেশ একটা জায়গা থেকে পাইনি, দেশের সর্বোচ্চ জায়গা, মন্ত্রী, সিনিয়র ব্যক্তি নাম বলছি না, তারা আমাদের প্রেশারের মধ্যে রেখে ১৪টি জায়গায় পাঠায়। টঙ্গী, যাত্রাবাড়ী, শনিরআখড়া, পোস্তগোলা, আশুলিয়াসহ ১৪টা জায়গায় ৮০/৯০ জনকে মোতায়েন করা হয়।
দুপুরে যখন খবর নিতে ফোন করি, জানতে পারি যে, প্রত্যেকটা এন্ট্রি পয়েন্টে ১০ থেকে ১৫ হাজার করে ছাত্র-জনতা আসছে। আমি বলেছি সবাই পোস্ট ছেড়ে দিয়ে সরে যাও। জাস্ট ভেনিস। কারণ বিপুল পরিমাণ ছাত্র-জনতাকে গার্ড করার প্রয়োজন নেই। সেটা করতে গেলে হতাহতের সংখ্যা বাড়বে। এভাবেই আমরা দায়িত্ব পালন করেছি। এখন বিজিবি পূজায় নিরাপত্তায়, যৌথ বাহিনীর সঙ্গে অভিযানে কাজ করছে। এর বাইরে গাজীপুরের ৯ পদাতিক ডিভিশন আশুলিয়া শিল্প এলাকার নিরাপত্তায় কাজ করছে।









