জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ করে মাসে কোটি টাকার বেশি আয় করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের এক কম্পিউটার অপারেটর কাম অফিস অ্যাসিস্ট্যান্টসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেপ্তাররা হলেন—গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. হাবীবুল্লাহ (৪১) ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (আউটসোর্সিং) মো. আলামিন (৩৯)।
সিআইডি বলছে, মাত্র ৩০ দিনে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি এনআইডি তথ্য সরবরাহ করেছেন তারা। প্রতিটি তথ্যের জন্য ৩০০ টাকা হিসাব করলে অবৈধভাবে প্রায় ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর আগারগাঁও থেকে মো. আলামিন এবং পরে মোহাম্মদপুর থেকে চক্রের আরেক সদস্য মো. হাবীবুল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
সিআইডি জানায়, আলামিনের কাছে নির্বাচন কমিশনের একটি গোপন আইডি ও পাসওয়ার্ড ছিল, যা তিনি হাবীবুল্লাহকে দেন। এর বিনিময়ে তিনি প্রতি সপ্তাহে উৎকোচ নিতেন। ওই আইডি ব্যবহার করে হাবীবুল্লাহ জনপ্রতি ২০০–৩০০ টাকায় নাগরিকদের এনআইডি তথ্য বিক্রি করতেন।
তদন্তে দেখা গেছে, এক মাসে প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার এনআইডি তথ্য বিক্রি করে তারা অবৈধভাবে প্রায় ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। গ্রেপ্তাররা স্বীকার করেছেন, ওটিপি ট্রান্সফারের মাধ্যমে এনআইডি সার্ভারে ঢুকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য বিক্রি করতেন।
ডিআইজি আবুল বাশার তালুকদার বলেন, অপরাধলব্ধ অর্থ দিয়ে মো. হাবীবুল্লাহ ঢাকায় নিজস্ব ফ্ল্যাটসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন।
এ ঘটনায় পল্টন মডেল থানার মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং চক্রের অন্য সদস্যদেরও শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এক প্রশ্নের জবাবে সিআইডির এই ডিআইজি বলেন, এই চক্রে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।









