সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে একটি বছরের ইতি ঘটে শুরু হয়েছে নতুন একটি বছরের। জরাজীর্ণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দকে বিদায় জানিয়ে এসেছে ১৪৩২ সন। নতুন বছরের নতুন সূর্যকে বরণ করে নিতে দিনভর চলছে নানা আয়োজন। রয়েছে রবীন্দ্র সরোবরে ইস্পাহানি-চ্যানেল আই-সুরের ধারা’র বিশেষ আয়োজন।
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে একটি বছরের ইতি ঘটে শুরু হয়েছে নতুন একটি বছরের। জরাজীর্ণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দকে বিদায় জানিয়ে এসেছে ১৪৩২ সন। নতুন বছরের নতুন সূর্যকে বরণ করে নিতে দিনভর চলছে নানা আয়োজন। রয়েছে রবীন্দ্র সরোবরে ইস্পাহানি-চ্যানেল আই-সুরের ধারা’র বিশেষ আয়োজন।
সোমবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৬টায় শুরু হওয়া এই আয়োজন চলবে সকাল ৯টা পর্যন্ত। এদিন নতুন সূর্যের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে সরগরম হয়ে ওঠে রবীন্দ্র সরোবর প্রাঙ্গণ। নববর্ষকে বরণ করতে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা।
অনুষ্ঠানে সুরের ধারার শিল্পীদের পাশাপাশি গান ও নৃত্য পরিবেশন করছেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিল্পীরা। তাদের পরিবেশনায় রয়েছে বাংলা সংস্কৃতির বৈচিত্র্য ও বহুমাত্রিকতা।
অনুষ্ঠান শুরু হয় বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যন্ত্র সংগীতায়োজনের মধ্য দিয়ে। পরে শিশুদের কন্ঠে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আলো আমার আলো ওগো, আলো ভুবন ভরা’ গানটি পরিবেশিত হয়। নান বয়সের শিল্পীদের কন্ঠে পরিবেশিত হয় কাজী নজরুলের ইসলামের রচিত গান ‘প্রভাত বীণা তব বাজে’। পরে পার্বত্য অঞ্চলের ভিন্ন জাতির শিল্পীরা তাদের আঞ্চলিক ভাষায় ‘আমাদের দেশ হীরা-মানিক, সোনা, রুপায় ভরা’ গানটি পরিবেশন করেন। এভাবে একের পর এক আয়োজন চলছে।
নতুন বছরের নতুন সূর্যকে বরণ করতে রমনার বটমূল, রবীন্দ্র সরোবরে ইস্পাহানি-চ্যানেল আই-সুরের ধারাসহ বর্ষবরণে নানা আয়োজন, সব মানুষের অংশগ্রহণে দেশজুড়ে বর্ণিল উৎসব।
কোথায় কী আয়োজন
যুগ যুগ ধরে চলে আসা এ আনন্দ উৎসবের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় শোভাযাত্রা ও বৈশাখী মেলা। প্রতিবারের মতো এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
‘বাংলা নববর্ষ ১৪৩২’ জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে সরকারও নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আজ সরকারি ছুটি।
মূলত চৈত্র সংক্রান্তিতে বর্ষবিদায়ের মধ্য দিয়ে এরই মধ্যে এই আয়োজন শুরু হয়ে গেছে। প্রথমবারের মতো এ বছর বাঙালির পাশাপাশি দেশের চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও গারোসহ অন্যান্য জাতিসত্তার মানুষেরও নববর্ষ উদযাপনের জন্য জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক পরিসরে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উৎসব আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
সরকারের নেওয়া কর্মসূচি অনুযায়ী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, মহানগর ও পৌরসভা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।
বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বৈশাখী মেলার আয়োজন করবে।
তিন পার্বত্য জেলা এবং অন্যান্য নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক দলগুলোর শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণের সমন্বয় করবে শিল্পকলা একাডেমি। পাশাপাশি রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো একই সঙ্গে বৈসাবি উৎসব উদযাপন করবে। এ ছাড়া নববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে বিদেশি মিশনগুলো।
আজ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে সব জাদুঘর ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য সেসব স্থানে প্রবেশে লাগবে না কোনো টিকিট। বর্ষবরণ উপলক্ষে দিনব্যাপী আনন্দ উৎসব চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।
সরকারের গৃহীত কর্মসূচি অনুযায়ী, বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের পরিবর্তে সংবাদপত্রগুলোতে পয়লা বৈশাখের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ ফিচার প্রকাশ করা হয়েছে এবার। এছাড়াও বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলসহ অন্যান্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো নববর্ষের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং সব সরকারি ও বেসরকারি টিভি চ্যানেল, রেডিও স্টেশন এবং বাণিজ্যিক ও কমিউনিটি রেডিওতে শোভাযাত্রা সম্প্রচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।









