মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে–সংক্রান্ত তদন্তের বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করেছে। এতে মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসকে ঘিরে কিছু অভিযোগ পুনরায় সামনে এসেছে, যার মধ্যে যৌনবাহিত রোগ (এসটিডি)–সংক্রান্ত দাবিও রয়েছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানান, তিন মিলিয়নের বেশি পৃষ্ঠা নথি, দুই হাজারেরও বেশি ভিডিও এবং এক লাখ ৮০ হাজারের বেশি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পরিচয় সুরক্ষার কারণে এক হাজারের বেশি সম্ভাব্য ভুক্তভোগীর তথ্য রক্ষা করতে সময় লাগায় নথি প্রকাশে বিলম্ব হয়। ব্ল্যাঞ্চের ভাষ্য, এ প্রকাশ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার সমাপ্তি।
এপস্টেইনের নামে গেটসকে লক্ষ্য করে ইমেইল নতুন প্রকাশিত নথির মধ্যে কিছু খসড়া ইমেইল রয়েছে, যা এপস্টেইনের লেখা বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং সেখানে গেটসকে লক্ষ্য করা হয়েছে।
ইমেইলগুলোতে অভিযোগ করা হয়, গেটস তথাকথিত রাশিয়ান মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্কের পর এসটিডি গোপন করতে চেয়েছিলেন এমন দাবিও রয়েছে। এসব বক্তব্য গেটসের দীর্ঘদিনের বিজ্ঞান উপদেষ্টা বরিস নিকোলিকের নামে খসড়া বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
খসড়া ইমেইলে আরও বলা হয়, গেটসকে ওষুধ জোগাড়ে সহায়তাসহ নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ নানা কাজে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে এমন ভাষ্য সেখানে উঠে আসে।
ঢাকনা দেওয়ার অভিযোগ ও বিচ্ছেদের আশঙ্কা আরেকটি খসড়া ইমেইলে এপস্টেইন, নিকোলিকের নামে লিখে, গেটসের বিরুদ্ধে জনইমেজ রক্ষায় বিষয়টি “ঢাকনা দেওয়ার” চেষ্টা করার অভিযোগ তোলেন। সেখানে অ্যান্টিবায়োটিক সংগ্রহ ও ইমেইল মুছে ফেলার অনুরোধের কথাও উল্লেখ আছে।
খসড়ায় আরও বলা হয়, যদি প্রকাশ্য বিবাহবিচ্ছেদ হয়, তবে দাতব্য অঙ্গীকার কর্মসূচিতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে যায়।
নথিতে ২০১৭ সালে রাশিয়ান ব্রিজ খেলোয়াড় মিলা আনতোনোভার সঙ্গে গেটসের কথিত সম্পর্ক প্রকাশের হুমকির প্রসঙ্গও পুনরায় এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি দাতব্য তহবিলে গেটস অংশ না নেওয়ায় এপস্টেইন এমন হুমকি দিয়েছিলেন।
গেটসের পক্ষ থেকে বিল গেটসের এক মুখপাত্র নথিতে থাকা অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও হাস্যকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তিনি বলেন, এসব নথি কেবল এপস্টেইনের হতাশাই প্রকাশ করে এবং গেটসকে ফাঁসাতে ও মানহানি করতে তিনি কতদূর যেতে পারেন তা দেখায়।
উল্লেখ্য, এর আগের নথি প্রকাশে ব্যবসায়ী, তারকা, শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিকদের সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগের তথ্য উঠে আসে। বিল গেটস ও মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের দাম্পত্য ১৯৯৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ছিল। মেলিন্ডা পূর্বে বলেছিলেন, গেটসের পরকীয়াসহ এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক তাদের বিচ্ছেদের একটি কারণ, তবে বিস্তারিত জানাননি।
জেফ্রি এপস্টেইন ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে বিচারাধীন অবস্থায় মারা যান। সরকারি তদন্তে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।









