জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ সিজন ৫-এর চ্যাপ্টার আটে এসেছে নতুন চমক। হুট করে কাবিলা, হাবু, পাশা, নেহালদের ফ্ল্যাটে রোকেয়ার কাজিন হিসেবে ‘রকি’ নামের নতুন চরিত্র এন্ট্রি নিয়েছে। যিনি এসেই অদ্ভুত আচরণ আর কথায় কথায় ‘আই রোকেয়ার কাজিন নো’ বলছেন!
‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’র শুরু থেকে কাবিলার প্রেমিকা রোকেয়াকে দর্শক শুধু চোখে দেখেনি। তার নানা দোষ গুণ, কাবিলার সঙ্গে প্রেমের খুনসুটি, তার চালাকি সবই জেনেছে দর্শক। এ কারণে প্রতি সিজনেই দর্শক রোকেয়াকে দেখতে চান। কিন্তু আজও মেলেনি নোয়াখালীর রোকেয়ার দেখা!
চ্যানেল আই, বুম ফিল্মস এবং বঙ্গ-তে দেখা যাচ্ছে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ সিজন ৫। এবার রোকেয়ার কাজিন নোয়াখালীর ভুংভাং সেলুনের মালিক রকিকে দেখতে পেলেন দর্শক। তার আগমন ব্যাচেলরদের ফ্ল্যাটে একপ্রকার ঝামেলা ও কৌতুকের জন্ম দিয়েছে।
তুচ্ছ কারণে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখানো এবং উঠতে বসতে ‘আই রোকেয়ার কাজিন নো’ বলা সংলাপটি দর্শকদের বাড়তি বিনোদন দিচ্ছে।
রকি চরিত্রটি আগামী পর্বগুলোতেও দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে মাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, “এই চরিত্রটা নিয়মিত থাকলে ভালো লাগবে, কারণ এই চরিত্রের মধ্যে আলাদা ব্যাপার আছে।”
কিন্তু কে এই রকি? কীভাবে সুযোগ পেলেন ব্যাচেলর পয়েন্টে? জানা যায়, রকির পুরো নাম জাফরুল আবেদিন রকি। তিনি একটি মুঠোফোন কোম্পানির মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত।
চ্যানেল আই অনলাইনকে জনপ্রিয় নির্মাতা কাজল আরেফিন অমি বলেন, “ব্যাচেলর পয়েন্টের যে কোনো চরিত্রে কাউকে যুক্ত করলে তার মার্কেট ভ্যালু কিংবা হাইপ আছে কিনা সেটা কখনোই মাথায় রাখি না। যে চরিত্রে তাকে নেয়া হবে, আদেও সে পারবে কিনা সেটা সবার আগে মাথায় রাখি। তাছাড়া এবারের সিজনে যেহেতু আমি নিজেই প্রযোজক, কনটেন্টের স্বার্থে কিছু রিস্ক তো নিতেই পারি! সেই জায়গা থেকে রকি ভাইয়ের সঙ্গে কাজের সূত্রে পরিচয়ের পর ব্যক্তিগত সু-সম্পর্ক তৈরি হয়। তার সঙ্গে মিশে দেখেছি, সে যথেষ্ট চঞ্চল ও কিছুটা দুষ্টু প্রকৃতির।”
অমি বলেন, রোকেয়ার কাজিন চরিত্রটা যখন সাজাই তখন দেখতে পাই রকি ভাইয়ের মধ্যেও সেই দুষ্টুমি রয়েছে। মাত্রই এই চরিত্রের জার্নি শুরু হলো। দর্শকদের অনেকরকম প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি। যেভাবে রোকেয়ার কাজিনকে প্রেজেন্ট করতে যাচ্ছি, আমি বিশ্বাস করি অন্যান্য চরিত্রের মতো এটিও দর্শকদের মজা দেবে এবং মনে থাকবে। যেহেতু রোকেয়ার কাজিন চলে এসেছে, সামনে হয়তো আরও চরিত্র আসবে, এরপর রোকেয়াও আসবে।
২০২২ সালের শেষের দিকে পলাশের মাধ্যমে কাজল আরেফিন অমির সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল রকির। তিনি আগেই গান ও টুকটাক অভিনয়ে জড়িত ছিলেন। তখন থেকে চাইতেছেন, কখনও ক্যামিও দেয়ার সুযোগ পেলেও ব্যাচেলর পয়েন্টের মতো হিট সিরিয়ালে অভিনয় করবেন তিনি।
জাফরুল আবেদিন রকি বলেন, আমি যে কোম্পানিতে জব করি সেটার সঙ্গে অমিদের একটি কোলাবোরেশনে কাজ হয়েছিল পরিচয়ের পর। এরপর থেকে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত থাকে। অমি বলেছিল, কখনও যদি গল্প ডিম্যান্ড করে আমি অভিনয়ের সুযোগ পাবো। যেহেতু আমার দাদা বাড়ি মাইজদি (নোয়াখালী) এবং নানা বাড়ি লক্ষ্মীপুর, এ কারণে আমি আগে থেকেই ব্যক্তিগতভাবে কিছু ফান লাভিং প্রকৃতির!
তিনি বলেন, গতবছরই আমাদের কোম্পানির সঙ্গে অমিদের টিমের আরেকটি কোলাবোরেশন হয়। এরপর সে আমাকে ব্যাচেলর পয়েন্ট সিজন ৫-এর কথা বলে। আসলে আমাকে দিয়ে অভিনয় করিয়ে নেয়া এবং আমার চরিত্রটি তৈরি করে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার সব ক্রেডিট অমির।
রকি জানান, চ্যাপ্টার আট রিলিজের পর দর্শকদের ভালো ফিডব্যাক পাচ্ছেন। বললেন, দেশের বাইরে থেকে ফ্রেন্ডরা দেখে নক দিয়েছে। অচেনা মানুষের প্রচুর ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাচ্ছি, টেক্সট, কমেন্ট পাচ্ছি। গতকাল (বুধবার) কক্সবাজারে ছিলাম। সেখানেও লোকাল মানুষরা এসে ব্যাচেলর পয়েন্টে দেখেছে বলে ‘আই রোকেয়ার কাজিন নো’ বলে সংলাপ দিচ্ছে, ছবি তুলছে। আসলে এতসবকিছু সম্ভব হয়েছে মাস্টারমাইন্ড অমির জন্য।
রকি বলেন, এখানে টিমে অধিকাংশ মানুষই আমার পূর্ব পরিচিত। এ কারণে বন্ডিং অনেক ভালো। রিহার্সেল থেকে সবকিছুই প্রত্যেকে খুবই ওয়েলকামিং। যেহেতু আগে ছোট পরিসরে অভিনয় করেছি, তাই ব্যালেন্স করতে সমস্যা হচ্ছে না। আমার জব রয়েছে এটা সবসময়ই ফার্স্ট প্রাইরোটি। এর সঙ্গে ব্যাচেলর পয়েন্টে স্বাছন্দ্যে অভিনয় করতে পারছি। মূলত শখ ও প্যাশনের জায়গা থেকে এখানে কাজ করে আনন্দ পাচ্ছি।









