ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তিনি গাজায় থাকা জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে ঘোষণা দিতে পারবেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, হামাস নিরস্ত্র হবে এবং গাজা বেসামরিকীকরণ হবে, সহজ হোক বা কঠিন হোক, এটি অর্জিত হবেই।
রোববার (৫ অক্টোবর) বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি পরিকল্পনায় হামাসের সম্মতির পর। তবে হামাস যে অন্য বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চায়, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।
মিশরে সোমবার থেকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে পক্ষগুলোর মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি চুক্তি বাস্তবায়নে হামাসের বিলম্ব ‘সহ্য করবেন না’ এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) জানিয়েছে, ট্রাম্পের প্রস্তাবের প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এতে ইসরায়েলি সেনাদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। হামাসও কিছু বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সম্মত হয়েছে এবং সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে রাজি হয়েছে। তবে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে তারা এখনো স্পষ্ট নয়।
গাজা ও ইসরায়েল- উভয় পক্ষই সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করছে, কারণ চলমান উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত একটি চুক্তিতে গড়ানোর নিশ্চয়তা এখনও নেই। নেতানিয়াহু দেশটির অতি জাতীয়তাবাদী মন্ত্রীদের সমর্থন পাচ্ছেন, যারা হামাসকে পূর্ণ পরাজিত না করা হলে কোয়ালিশন সরকার থেকে সরে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে।
যুদ্ধের ফলে গাজার বেশিরভাগ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ৯০ শতাংশেরও বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের হামলায় ২৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত সংঘর্ষে মোট ফিলিস্তিনি নিহতের সংখ্যা ৬৭ হাজার ৭৪০ জনে দাঁড়িয়েছে।
ইসরায়েলি সেনারা গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে। শনিবারও গাজা শহরে তিনটি বিমান হামলা হয়েছে। একারণে জিম্মিদের পরিবারগুলো আশা করছেন, তাদের প্রিয়জন শিগগিরই পরিবারের কাছে ফিরবে। তবে গাজার অধিবাসীরা একদিকে আশা ও অন্যদিকে সন্দেহ প্রকাশ করছেন।
গাজার এক বাসিন্দা ইব্রাহিম ফারেস বলেছেন, আশায় ভেসে যেওনা। আরও অনেক দফা আলোচনা হবে। খুঁটিনাটি বিষয়ের মধ্যেই শয়তানিটা থাকে।
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান এই দ্বন্দ্বের শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, যখন হামাসের হামলায় ইসরায়েলের ১২শ’ ব্যক্তি নিহত ও ২৫১ জন জিম্মি হয়।









