ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তার ঘনিষ্ঠজনদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রতি তিনি ক্রমশ হতাশ হয়ে পড়ছেন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ইসরায়েল হায়োম’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রায়শই সিরিয়া এবং ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে জোরালো বক্তব্য দিলেও, নেতানিয়াহু মনে করেন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো তাদের বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
নেতানিয়াহুর অন্যতম উদ্বেগ হলো, সিরিয়ায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য তুর্কি প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের পদক্ষেপগুলোকে ট্রাম্পের সমর্থন করা। যদিও ট্রাম্প এই অঞ্চলে ইসরায়েলকে অপারেশনাল স্বাধীনতা দিয়েছেন, তবুও এরদোয়ানের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বৃহত্তর পরিণতি নিয়ে নেতানিয়াহু অস্বস্তিতে রয়েছেন।
ওয়াশিংটনে এপ্রিল মাসে একটি আকস্মিক বৈঠকের সময় এই উত্তেজনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যখন ট্রাম্প প্রকাশ্যে এরদোয়ানের প্রশংসা করেন এবং নেতানিয়াহু তার পাশে বসে কোনো প্রতিক্রিয়া না দিয়ে নীরব থাকেন। ইসরায়েলের কট্টর সমালোচক এরদোয়ান রমজান মাসে একটি মসজিদে ইসরায়েলের ধ্বংসের জন্য প্রার্থনাও করেছেন।
নেতানিয়াহুর অস্বস্তির আরেকটি কারণ হলো, ট্রাম্পের ইরানকে পারমাণবিক আলোচনায় পুনরায় যুক্ত করার সিদ্ধান্ত, যা হোয়াইট হাউসের বৈঠকে উন্মোচন করা হয়েছিল। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতি ছাড়াই ছাড় দিচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে সদ্য বিদায়ী মাইক ওয়াল্টজের বরখাস্তের কারণেও হতাশ।
‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর বিবরণ অনুযায়ী, ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াল্টজের আগ্রাসী অবস্থান এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সামরিক কৌশল সম্পর্কে নেতানিয়াহুর সাথে তার চলমান সমন্বয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। গত সপ্তাহে ওয়াল্টজের অপসারণের পেছনে এই উত্তেজনা একটি কারণ ছিল বলে জানা গেছে।
এই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহুর কার্যালয় একটি বিবৃতি জারি করে বলেছে, কয়েক দিন আগে তাদের কথোপকথনে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্মত হয়েছেন যে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের ক্ষমতা ভেঙে দেওয়াই সর্বোচ্চ লক্ষ্য।









