ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) এর আয়োজনে রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় চিকিৎসক সীরাত কনফারেন্স ও কালচারাল ফেস্ট ২০২৫।
সীরাতের আলোকে চিকিৎসকদের নৈতিকতা, মানবসেবা, নেতৃত্ব এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন বিষয়ে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) দিনব্যাপী আলোচনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনডিএফ সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইসলামিক সেন্টারের ডিরেক্টর শায়খ মোখতার আহমাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কসোভার সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী রিফাত লতিফি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান বলেন “রাসূলুল্লাহ (সা.) মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠতম রোল মডেল। আমরা চিকিৎসকরা যখন স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা, খাদ্যাভ্যাস, ঘুম, মানসিক সুস্থতা বা প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে কথা বলি—তখন দেখি এগুলোর প্রতিটিই নবীজীর জীবনাচারে পূর্ণভাবে বিদ্যমান ছিল। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান যেসব নীতিকে আজ ‘বৈজ্ঞানিক নির্দেশনা’ বলে বিবেচনা করে রাসূলুল্লাহ (সা.) সেগুলো শত শত বছর আগে মানবতার জন্য বাস্তব উদাহরণ হিসেবে রেখে গিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “চিকিৎসা পেশা শুধু রোগ নিরাময়ের নয়; এটি নৈতিকতা, সহানুভূতি, মানবসেবা এবং দায়বদ্ধতার যুগল সমন্বয়। রোগী শুধু শারীরিক চিকিৎসা চায় না—সে আশ্বাস, নিরাপত্তা, আন্তরিকতা ও হৃদয়ের প্রশান্তি চায়। তাই চিকিৎসকদের চরিত্র, আচরণ ও নৈতিক শক্তি একজন রোগীর সুস্থতার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে।”
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ড্যাফোডিল ইসলামিক সেন্টারের ডিরেক্টর শায়খ মোখতার আহমেদ বলেন “সীরাতের আলোকে চিকিৎসকদের জীবনদর্শন গঠিত হলে রোগী তার ডাক্তারকে যেমন চিকিৎসক হিসেবে দেখবে, তেমনি বিশ্বাস, আস্থা এবং মানবতার প্রতীক হিসেবে দেখবে। সীরাত শুধু প্রবচন নয়—এটি চিকিৎসা পেশাকে উন্নত করার একটি পূর্ণাঙ্গ নৈতিক কাঠামো।”
অনুষ্ঠানে জুলাই বিপ্লবে চিকিৎসকদের অবদান স্মরণে একটি স্মারক উন্মোচন করা হয়, যেখানে সংকটময় মুহূর্তে চিকিৎসকদের সাহস, পেশাদারিত্ব, মানবসেবা ও জাতীয় দায়িত্ব পালনের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। এ স্মারককে দেশের চিকিৎসা সমাজের ত্যাগ ও সাহসিকতার প্রতীক হিসেবে অভিহিত করা হয়।
দিনব্যাপী আলোচনা শেষে অনুষ্ঠিত হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পর্ব, যেখানে চিকিৎসকদের পরিবেশনায় সীরাতভিত্তিক নাশিদ, আবৃত্তি, সংগীত ও মননশীল পরিবেশনা উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে।









