বিহার বিধানসভা নির্বাচনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের ব্যাপক বিজয় ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দুই দফার ভোট শেষে ২৪৩ সদস্যবিশিষ্ট বিধানসভায় ২০২টির বেশি আসন নিশ্চিত করে জোটটি একপ্রকার একতরফা জয়ের রেকর্ড গড়েছে।
আজ ১৫ নভেম্বর শনিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে নিউজ এইটটিন জানিয়েছে, ফল ঘোষণার পর দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নরেন্দ্র মোদি বলেন, বিহারের এই বিজয় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেও জয়ের স্রোত বয়ে আনবে। তার ভাষায়, গঙ্গা যেমন বিহার পেরিয়ে বাংলায় প্রবাহিত হয়, তেমনি বিহারের এই বিজয়ও বাংলায় আমাদের জয়ের পথ খুলে দেবে।
বিহারের ফলাফলে প্রবণতা পরিষ্কার হতেই বিজেপির শীর্ষ ও আঞ্চলিক নেতারা পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য শুরু করেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সবচেয়ে খারাপের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন। বিজেপির রাজ্য নেতা শুভেন্দু অধিকারী জানান, ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজেপি অসাধারণ জয় পাবে। মিশন বাংলা’ সামনে রেখে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শুকান্ত মজুমদার মন্তব্য করেন, এখন সময় এসেছে বাংলার জঙ্গল পরিষ্কার করার।
বিজেপির এমন দাবি–চ্যালেঞ্জের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষমতাসীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। দলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলা হয়—“আসুক, দেখা যাবে।” এসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরোনো একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়, যেখানে তিনি বলেন—“আমাদের সঙ্গে খেলতে এলেই কিন্তু সহজ হবে না।”
বিজেপিকে কটাক্ষ করে তৃণমূল আরও জানায়, বাংলাকে ‘বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের রাজ্য’ বলে অপমান করার পর রাজ্যে এসে ভোট চাইতে গিয়ে ক্ষমা না চেয়ে ঔদ্ধত্য দেখানো লজ্জাজনক। দলের দাবি, ২০২৬ সালের নির্বাচনে বাংলার মানুষ বিজেপির এই অহংকারের জবাব দেবে এবং তাদের অসম্মানিত হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য করবে।









