আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে দেশের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত তিন নেতার মাজার জিয়ারত ও শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে দলটির নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়।
নির্বাচনী প্রচারণা উদ্বোধনকালে এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দেশবাসীর প্রতি আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। এ সময় দলটির মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী উপস্থিত ছিলেন।
তিন নেতার মাজার জিয়ারত শেষে নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। যেখানে গণ-অভ্যুত্থানের পর, বিগত ১৬ বছর মানুষের ভোটাধিকার বঞ্চিত থাকার পরে, আমরা যখন একটি নতুন নির্বাচন এবং গণভোটের দিকে যাচ্ছি, আজ থেকে তার আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হচ্ছে।’
নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও তিন নেতার মাজারকে বেছে নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত তিন নেতার মাজার ও শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মাধ্যমে আমাদের নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করছি। আপনারা জানেন, এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অগ্নিপাত শুরু হয়েছিল। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৪৭ সালের পাকিস্তান আন্দোলন— এই সব কিছুর সঙ্গে এবং বাংলার মানুষের যত লড়াই-সংগ্রাম, সব কিছুর সঙ্গেই জড়িত রয়েছে এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। তাই আমরা ঢাকা-৮ আসনকে নির্বাচন করেছি আমাদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করার জন্য।’
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আমরা আমাদের জাতীয় প্রধান দুই নেতা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে স্মরণের মাধ্যমে এবং আমাদের পূর্বসুরীদের স্মরণের মাধ্যমে এই নির্বাচনী যাত্রা শুরু করছি। আমরা জানি, এই বাংলাদেশের রূপকার ছিলেন শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক এবং এর অন্যতম স্থপতি ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
তিনি বলেন, শেরেবাংলা জমিদারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। কৃষক-শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করেছেন। একইভাবে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করে আমরাও একটি নতুন বন্দোবস্তের দিকে এগোচ্ছি।
এ সময় এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ আরও বলেন, ‘হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পরেও আমরা বাংলাদেশে নতুন করে গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করছি এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।’
তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের জুলাইয়ের অকুতোভয় সৈনিক ও আধিপত্যবাদ বিরোধী লড়াইয়ের শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মাধ্যমে আমাদের আধিপত্যবাদ বিরোধী ও আজাদির যাত্রা শুরু করছি।
এনসিপি’র আহ্বায়ক বলেন, শরিফ ওসমান হাদি ভাইকে যারা হত্যা করেছে, সেই হত্যাকারীদের বিচার আমাদের আজকের এই নির্বাচনী যাত্রার অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। নির্বাচনের আগেই এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার আমরা এই বাংলার মাটিতেই আদায় করে ছাড়বো, ইনশাআল্লাহ।
আসন্ন গণভোট ও নির্বাচনের বিষয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘আজকের এই নির্বাচনী যাত্রায় সারা বাংলাদেশের মানুষকে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি, গণভোটে আপনারা হ্যাঁ ভোট দিন। গণভোটে হ্যাঁ প্রদানের মাধ্যমে সংস্কারের যাত্রাকে অব্যাহত রাখুন।’
এ সময় তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা ১০ দলীয় ঐক্যজোটকে বিজয়ী করুন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সারাদেশে যে ৩০ জন প্রার্থী রয়েছে, তাদেরকে শাপলা কলি মার্কায় বিজয়ী করে সংসদে পাঠান। সংসদে তারা সাধারণ মানুষের কথা বলবে, গণ-অভ্যুত্থানের কথা বলবে, সংস্কার ও সার্বভৌমত্বের কথা বলবে।’
পরে দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে নিয়ে ঢাকা-৮ এলাকায় মার্চ ফর জাস্টিস ও গণসংযোগের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।









