উদীচী ও ছায়ানটের কার্যালয় এবং গণমাধ্যমের ওপর হামলার প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।
মঙ্গলবার ২৩ ডিসেম্বর, বিকেলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও শাখা সংসদের উদ্যোগে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকায় বিকাল সাড়ে ৪টায় সত্যেন সেন চত্বর (উদীচী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে- জাতীয় প্রেসক্লাবের বিপরীতে) বিক্ষোভ সমাবেশ ও মশাল মিছিল কর্মসূচি পালন করে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম। এতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ, হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াত, শিক্ষা সংস্কৃতি রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব রুস্তম আলী খোকন, দৈনিক সমকালের সাংবাদিক সাইফুর রহমান তপন, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সংগঠন বিষয়ক সম্পাদক শেখ আনিসুর রহমান, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি শিবানী ভট্টাচার্য ও বেলায়েত হোসেন প্রমুখ। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ ঘোষ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে উদীচী কেন্দ্রীয় কার্যালয়। আগুনে উদীচীর ৫৭ বছরের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, বাদ্যযন্ত্র ও আসবাবপত্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তারা আরও বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাতে দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয় এবং ছায়ানট ভবনে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ এবং লুটতরাজ ঘটে। এরপর থেকেই উদীচীর উপর হামলার সরাসরি হুমকি দেয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টেও উস্কানি দেয়া হয়। তখন থেকেই সবার শঙ্কা ছিল যে কোন সময় আক্রান্ত হতে পারে উদীচী কেন্দ্রীয় কার্যালয়। তারপরও সেটির নিরাপত্তায় কোন ধরনের ব্যবস্থাই নেয়নি অন্তর্বর্তী সরকার বা প্রশাসন। আর এ কারণেই ১৯ ডিসেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় বিনা বাধায় অগ্নিসংযোগ করতে পারে মৌলবাদী, অন্ধকারের অপশক্তি।
এই হামলা ঠেকাতে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগে বক্তারা আরও বলেন, সরকারের কাছে উদীচীর একটিই প্রত্যাশা আর তা হলো উদীচী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই ন্যাক্কারজনক হামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে এর সাথে যে বা যারাই জড়িত থাক না কেন, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। এই হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত উদীচী এ দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখবে বলে জানান বক্তারা।
সমাবেশে উদীচীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম বলেন, স্বাধীনতার আগে থেকেই এদেশের মুক্তিকামী মানুষের যেকোনো ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে উদীচী। মহান মুক্তিযুদ্ধেও উদীচীর শিল্পী-কর্মীরা সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছে। যখনই জাতীয় জীবনে কোন দুর্যোগ নেমে এসেছে, যখনই সাধারণ মানুষের অধিকার হরণের চেষ্টা করা হয়েছে, যখনই শোষণ-বঞ্চনা-অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে গেছে, তখনই সাংস্কৃতিক হাতিয়ার নিয়ে রাজপথে নেমে এসেছে উদীচী।
তার বক্তব্যে আরও বলেন, অপশক্তি বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। যারা এখানে বিদেশি সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তির সরাসরি হস্তক্ষেপের পথ সুগম করতে চায়, তারাই উদীচী ও ছায়ানটের কার্যালয় এবং গণমাধ্যমের উপর হামলা চালিয়েছে। তাদের সেই ষড়যন্ত্র এদেশের আপামর জনসাধারণ সেই ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবে না। বৈষম্যমুক্তি এবং সবার বাকস্বাধীনতা নিশ্চিতের লক্ষ্য নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে জুলাই অভ্যুত্থান পর্যন্ত সাধারণ মানুষ বারবার রাজপথে নেমেছে, সেই লক্ষ্য অবশ্যই পূরণ হবে। কোন ধর্মান্ধ, মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ষড়যন্ত্রে সেটি ব্যর্থ হবে না। দেশের সকল শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে এই অন্ধকারের অপশক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান উদীচীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি।









