দেশ থেকে অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব নির্মূল এবং শিশু মৃত্যু প্রতিরোধের লক্ষ্যে আসছে ১ জুন সারা দেশে জাতীয় ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইন-২০২৪ পালিত হবে।
ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে এদিন সারাদেশে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ২৭ লাখ শিশুকে ১ লাখ ইন্টারন্যাশনাল মাত্রার নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এছাড়া ১২-৫৯ মাস বয়সী ১ কোটি ৯৬ লাখ শিশুকে ২ লাখ ইন্টারন্যাশনাল মাত্রার একটি লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৪ এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের জাতীয় পুষ্টিসেবা বিভাগের লাইন ডাইরেক্টর অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান জানান: জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবজানিত রোগের প্রাদুর্ভাব এক শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা এবং তা অব্যাহত রাখা। সেই সঙ্গে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অপুষ্টিজনিত মৃত্যু প্রতিরোধ করা।
তবে ৬ মাসের কম বয়সী, ৫ বছরের বেশি বয়সী, ৪ মাসের মধ্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে কিংবা অসুস্থ রয়েছে এমন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না বলে জানিয়েছেন ডা. মিজানুর রহমান।
ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়াতে শিশুদের অবশ্যই ভরা পেটে কেন্দ্রে আনতে হবে বলে জানান তিনি।
ক্যাম্পেইনের দিন নিয়মিত টিকা দান কেন্দ্র বা ইপিআই আউটরিচ সেন্টার নামে পরিচিত কেন্দ্রগুলো ছাড়াও কিছু অস্থায়ী ক্যাম্পেইন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এমন অস্থায়ী বা ভ্রাম্যমান কেন্দ্রের সংখ্যা থাকবে প্রায় ২০ হাজার। অস্থায়ী কেন্দ্রগুলো বাস টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশন, ফেরি ঘাট, লঞ্চ ঘাটসহ জনবহুলস্থানে স্থাপন করা হবে। বঙ্গবন্ধু ব্রিজ ও দাউদকান্দী ব্রিজে টোল প্লাজার কাছাকাছি ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।
ক্যাম্পেইনে বাদ পড়া শিশুদের অভিভাবকরা চাইলে পরদিন (২ জুন) ইপিআই সেন্টার, কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল গুলোতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল পাওয়া যাবে। এছাড়া, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১২টি জেলায় বাদ পড়া শিশুদের ঘরে ঘরে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
এছাড়া, ঘূর্ণিঝড় রোমেলের আঘাতে বিপর্যস্ত এলাকাগুলোতে ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইনে নির্দিষ্ট দিনের বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা দেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় স্বাস্থ্য প্রশাসন সুবিধাজনক দিনে ক্যাম্পেইনের আয়োজন করবে, ক্যাপসুল খাওয়ানোর সময়সীমারও শিথিলতা থাকবে।









