রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে দ্বিমুখী মতপার্থক্যে উভয় সংকটে রয়েছে ভারত। একদিকে যেমন মার্কিন চাপ, অন্যদিকে রাশিয়ার সাথেও সম্পর্ক রাখতে হচ্ছে। এমন অবস্থার মধ্যেই ভারতে অনুষ্ঠিত হয়েছে জি-২০ বৈঠক। সেখানে উপস্থিত রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও। তবে ওই বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরাসরি রাশিয়ার সমালোচনা না করেই বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি আজ জি-২০ বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বিভেদ কাটিয়ে তোলা এবং উন্নয়নশীল বিশ্বের চাহিদার দিকে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়েছেন। বলেন, চূড়ান্ত বৈশ্বিক বিভাজনের মুহূর্তে আমরা এই বৈঠক করছি। এই বৈঠকে যারা নেই তাদের প্রতিও আমাদের দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি বলেন, কয়েক বছরের অগ্রগতির পর, আমরা আজ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যে পিছিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছি। অনেক উন্নয়নশীল দেশ খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে, টেকসই ঋণের সাথে লড়াই করছে।
এবছর ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নানা গ্রুপের মধ্যে বিভক্তি ভারতীয় কূটনীতিকে পরীক্ষায় ফেলতে যাচ্ছে। ভারত কেন ইউক্রেন নিয়ে রাশিয়ার সমালোচনা করছে না, এই বিষয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে। যা ভারতের জি-২০ নিয়ে থাকা উচ্চাকাঙ্ক্ষার উপর প্রভাব ফেলছে।
একজন প্রাক্তন ভারতীয় কূটনীতিক বিবিসিকে বলেন যে যুদ্ধের বিষয়ে মতপার্থক্যকে উপেক্ষা করতে ভারতকে বিশেষ কিছু করতে হবে।
জি-২০ এমন একটি জোট যাতে বিশ্বের ১৯টি ধনী দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত, যেসব দেশ কিনা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক উৎপাদনের ৮৫% এবং এর জনসংখ্যার দুই তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী।
রাশিয়ার সের্গেই ল্যাভরভ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এবং চীনের কিন গ্যাং সহ জোটভুক্ত অন্যান্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে অংশ নিতে বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের বিষয়ে জোটনিরপেক্ষ নীতি অনুসরণ করে সূক্ষ্মভাবে কাজ করতে হবে। এবং অন্যান্য দেশগুলিকে একসাথে কাজ করার উপায় খুঁজে বের করার আহ্বান জানাতে হবে।
ভারত এই চাপ প্রতিরোধ করেছে কৌশলে রাশিয়ার সরাসরি সমালোচনা না করে। কারণ রাশিয়া ভারতের বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ।









