গাজার মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাওয়ায় ইসরায়েলের রাফা সীমান্ত ক্রসিং একমুখী খোলার সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে মিশর, কাতারসহ ছয়টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। তাদের আশঙ্কা, এই পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরে আসার অধিকার ক্ষুণ্ন করবে এবং মানবিক সহায়তা প্রবাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করবে।
শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে মিশর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একমুখী সীমান্ত খোলার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানান। তাদের অভিযোগ—ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের প্রচেষ্টা এবং গাজার মানবিক সংকট আরও বাড়াবে।
ইসরায়েলের সমন্বয়কারী সংস্থা সিওজিএটি গত বুধবার জানিয়েছিল, মিশরের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে রাফা ক্রসিং শুধু গাজার বাসিন্দাদের মিশরে প্রবেশের জন্য খোলা হবে; তবে তাদের ফেরত আসা সম্ভব হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই ঘোষণা এলেও আরব দেশগুলো পরিকল্পনার এই দিকটি প্রত্যাখ্যান করেছে।
যৌথ বিবৃতিতে তারা আরও জানান, ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনায় রাফা সীমান্ত উভয়দিকেই খোলার কথা ছিল এবং তা বাস্তবায়নেই মানবিক সংকট কমানো সম্ভব। একইসঙ্গে তারা ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
আরব দেশগুলো আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর (আইএসএফ) জন্য সৈন্য পাঠানোর আগ্রহও প্রকাশ করেছে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভোটের আগে ফিলিস্তিনিদের অধিকার সুরক্ষায় আরও শক্ত ভাষা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।
গাজায় ইসরায়েলের হামলা ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কারণে মানবিক পরিস্থিতি অব্যাহতভাবে জটিল হয়ে উঠছে। সংকট মোকাবিলায় রাফা সীমান্তের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা মানবিক সাহায্য আরও বাধাগ্রস্ত করবে বলে আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মহল।









