মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন সরকারের খরচ এক লাখ কোটি ডলার কমানোর পর ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’ (ডিওজিই) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ধনকুবের ও টেসলা প্রধান ইলন মাস্ক। মে মাসে পদত্যাগের পরিকল্পনা করছেন তিনি।
রোববার (৩০ মার্চ) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মাস্ক ও তার শীর্ষ কয়েকজন সহযোগী ফক্স নিউজের ‘স্পেশাল রিপোর্ট উইথ ব্রেট বেয়ার’-এ আলোচনার সময় এসব কথা বলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি দফতরের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য তৈরি করা এই বিভাগটির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে বৈঠক করেছেন মাস্ক। তিনি জানান, গত কয়েক মাসে তার বিভাগ কী কী কাজ করেছে, সেই সাফল্য নিয়ে সবিস্তার আলোচনা হয়েছে।
মাস্ক জানান, মে মাসে পদত্যাগ করবেন তিনি। এমন সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ৫৩ বছর বয়সি ধনকবুরে জানান, লক্ষ্য প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে মাস্ক বলেন, সরকারের খরচ ৭ লাখ কোটি ডলার থেকে কমিয়ে ৬ লাখ কোটি ডলারে নামিয়ে এনেছে তার দল। এক লাখ কোটি ডলার সাশ্রয়।
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি এবং সেই সঙ্গে ট্রাম্পের বিশেষ সরকারি এই কর্মকর্তা বলেন, আমার বিশ্বাস সময়ের মধ্যেই আমরা বাজেট ঘাটতি কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে ফেলব।
তিনি বলেন, সরকার একেবারেই দক্ষ নয়। প্রচুর অর্থ নষ্ট হয়েছে। সেই সঙ্গে জালিয়াতি। তাই আমরা নিশ্চিত, ব্যয় ১৫ শতাংশ কমানোয় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিষেবাগুলো কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
জানুয়ারি মাসে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদে বসার পরে ডিওজিই বিভাগটির সূচনা করা হয়। এর সর্বোচ্চ আসনে বসানো হয় মাস্ককে। সরকারি দফতরের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য তৈরি করা হলেও গত কয়েক মাসে ‘অদক্ষ’ কর্মী ছাঁটাই ও ‘অপ্রয়োজনীয়’ বিভাগগুলো বন্ধ করতেই দেখা গেছে এই বিভাগকে।
মে মাসে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সাক্ষাৎকারে মাস্ক জানান, লক্ষ্য প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছি। মাত্র ১৩০ দিনে সরকারের বার্ষিক আয় ও ব্যয়ের ব্যবধানের ঘাটতি অর্ধেক করে দিয়েছি।
তিনি বলেন, গড়ে এক দিনে ৪০০ কোটি ডলার সাশ্রয়। এভাবে সপ্তাহের সাত দিন ধরে হিসেব করলেই বুঝতে পারবেন। তার দাবি, জানুয়ারি মাসে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদে বসার পর থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন সরকারের এক লাখ কোটি ডলার খরচ কমিয়েছেন তিনি।
ডিওজিই এর প্রধান মাস্ক ছাড়াও এ টিমে ছিলেন সাত সদস্য। যাদের মধ্যে- আরাম মোঘাদ্দাসি, স্টিভ ডেভিস, ব্র্যাড স্মিথ, অ্যান্থনি আর্মস্ট্রং, জো গেবিয়া, টম ক্রাউস এবং টাইলার হ্যাসেন। সম্মিলিতভাবে বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় অপচয়, জালিয়াতি এবং অপব্যবহার কমানোর জন্য তাদের প্রচেষ্টা আরও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন সাক্ষাৎকারে।









