ভারতীয় বন্দী সরবজিৎ সিংকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আমির সরফরাজ তাম্বাকে পাকিস্তানের লাহোরে গুলি করে হত্যা করে অজ্ঞাত পরিচয় আততায়ীরা।
এনডিটিভি জানিয়েছে, গতকাল (১৪ এপ্রিল) রোববার পাকিস্তানের লাহোরের ইসলামপুরা এলাকায় একজন মোটরসাইকেল আরোহী আততায়ী তাম্বাকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। তবে কে বা কারা তাকে খুন করে তা জানা যায়নি।
পাঞ্জাবের ভিখিউইন্ডের বাসিন্দা সরবজিৎ সিং অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় ভুল করে পাকিস্তানে ঢুকে পড়েছিলেন। ১৯৯০ সালে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে বোমা বিস্ফোরণে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যদিও ভারত সরকার বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও তার ওপর এই অভিযোগ আনা হয়।
এরপর লাহোরের কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত কোট লাখপত কারাগারে বন্দী সিংকে ইট ও রড দিয়ে নৃশংসভাবে আক্রমণ করে সহবন্দীরা। অভিযোগ আছে, এই আক্রমনের পেছনে ছিলেন তাম্বা। ওই নৃশংস হামলার পর প্রায় এক সপ্তাহ কোমায় থেকে ২০১৩ সালের ২ মে ভোরে লাহোরের জিন্নাহ হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান সরবজিৎ সিং।
পাকিস্তানের জেলে দীর্ঘ ২২ বছর বন্দী ছিলেন সরবজিৎ সিং। তার বোন সবসময় জোর দিয়ে বলতেন, তার ভাই নির্দোষ। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে তিনি ভুল করে পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন।
তাম্বাকে পাকিস্তানের একটি আদালত প্রমাণের অভাবে মুক্ত করে দেয়। মুক্ত হওয়ার ৬ বছর পর এবার সরবজিৎ সিংয়ের সেই খুনীকে পাকিস্তানেই গুলি করে হত্যা করা হলো।







